Logo

খেলা

কিউইর বিপক্ষে একযুগ পর

শান্ত-মোস্তাফিজের ঝড়ে টাইগারদের সিরিজ জয়

Icon

মশিউর রহমান

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫২

শান্ত-মোস্তাফিজের ঝড়ে টাইগারদের সিরিজ জয়

দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে অধরা জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী অঘোষিত ফাইনালে’ কিউইদের ৫৫ রানে হারিয়েছে টিম টাইগার্স। নাজমুল হোসেন শান্তর রাজকীয় সেঞ্চুরি এবং চোট কাটিয়ে ফেরা মোস্তাফিজুর রহমানের বিধ্বংসী ৫ উইকেটে ভর করে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিল স্বাগতিকেরা। ২০১৩-১৪ মৌসুমের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়।

শুরুতে বিপর্যয়, শান্ত-লিটনের মহাকাব্যিক জুটি: টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। কিউই পেসার উইলিয়াম ও’রুর্কের তোপে প্রথম ৩ ওভারের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান (০) ও তানজিদ হাসান তামিম (১)। দলীয় ৯ রানে ২ উইকেট হারানোর পর সৌম্য সরকার প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ১৮ রানেই ফিরে যান। মাত্র ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন বাংলাদেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, ঠিক তখনই শুরু হয় নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসের লড়াই।

চতুর্থ উইকেটে এই দুই ব্যাটার ১৭৮ বলে ১৬০ রানের এক অসাধারণ জুটি গড়েন। প্রথম ১০ ওভারে ৩ উইকেটে মাত্র ৩৬ রান করা বাংলাদেশ ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে। ৭০ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন শান্ত। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে ৭১ বলে নিজের ১৩তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন দাস। লিটন ৯১ বলে ৭৬ রান করে আউট হয়ে সেঞ্চুরি মিস করলেও শান্ত ভুল করেননি। ১১৪ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতরান পূর্ণ করেন তিনি। ১১৯ বলে ১০৫ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলে শান্ত যখন বিদায় নেন, তখন বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড মজবুত অবস্থানে।

শেষের নাটকীয়তা ও কিউইদের লক্ষ্য: শান্ত-লিটনের বিদায়ের পর বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। যেখানে স্কোর ৩০০ ছাড়াবে বলে মনে হচ্ছিল, সেখানে শেষ ১০ ওভারে তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজরা মাত্র ৬১ রান তুলতে সক্ষম হন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস। তাওহীদ হৃদয় ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ও’রুর্ক ও শরিফুলের বোলিং তোপ বাংলাদেশের রানের গতিকে শেষ দিকে রুখে দেয়।

২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মোস্তাফিজুর রহমানের তোপের মুখে পড়ে নিউজিল্যান্ড। চোট কাটিয়ে এই ম্যাচে ফেরা কাটার মাস্টার’ নিজের প্রথম স্পেলেই ফিরিয়ে দেন বিপজ্জনক হেনরি নিকোলসকে (৪)। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। গতি তারকা নাহিদ রানা ১৪৮.৬ কিমি বেগের এক অবিশ্বাস্য ইয়র্কারে জশ ক্লার্কসনের স্টাম্প উপড়ে ফেললে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে বাংলাদেশ। অধিনায়ক টম ল্যাথামকে (৫) মিরাজ এবং থিতু হওয়া উইল ইয়াংকে (১৯) নাহিদ রানা বিদায় করলে ৬১ রানেই ৩ উইকেট হারায় কিউইরা। মাঝে নিক কেলি (৫৯) ও মোহাম্মদ আব্বাস (২৫) প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ২৬তম ওভারে কেলিকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজ।

ম্যাচের শেষ দিকে ডিন ফক্সক্রফট একাই কিউইদের হয়ে লড়াই চালিয়ে যান। ৪২তম ওভারে তানভীর ইসলামকে দুটি এবং পরবর্তী ওভারে মোস্তাফিজকে দুটি ছক্কা মেরে ম্যাচ জমিয়ে তোলার চেষ্টা করেন তিনি। তবে তার ৭৫ রানের ইনিংস কেবল হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছে। মোস্তাফিজ ১০ রানের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের আরও একটি ফাইফার’ (৫ উইকেট) পূর্ণ করার পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের লেজ ছেঁটে দেন। ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে ৩০ রানে ৫ উইকেট নেন মোস্তাফিজ, যা তাঁকে ম্যাচের অন্যতম নায়কে পরিণত করে।

এক নজরে ঐতিহাসিক এই জয়:

ফলাফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী।

সিরিজ: বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা: নাজমুল হোসেন শান্ত (১০৫ রান)।

সিরিজ সেরা: মোস্তাফিজুর রহমান।

রেকর্ড: ২০১৩-১৪ সালের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়।

বাংলাদেশ: ২৬৫/৮ (৫০ ওভার); শান্ত ১০৫, লিটন ৭৬, হৃদয় ৩৩*; ও’রুর্ক ৩/৪৪।

নিউজিল্যান্ড: ২১০/১০ (৪৪.৫ ওভার); ফক্সক্রফট ৭৫, কেলি ৫৯; মোস্তাফিজ ৫/৩০, নাহিদ রানা ২/৪০।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন