কামরুন নাহার কলি
দীর্ঘ আলোচনা, সমালোচনা এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের সুপারিশের পর অবশেষে জাতীয় শুটার কামরুন নাহার কলির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন। তবে এই ফেরা কলির জন্য খুব একটা সহজ হচ্ছে না। বহিষ্কারাদেশ তুলে নিলেও ফেডারেশন তাঁর ওপর আরোপ করেছে কঠোর একগুচ্ছ শর্ত ও বিধি-নিষেধ, যা অমান্য করলে কোনো নোটিশ ছাড়াই তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌস
স্বাক্ষরিত চিঠিতে কলিকে দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে সিংহভাগই সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
সংক্রান্ত। ফেডারেশনের দেওয়া উল্লেখযোগ্য শর্তগুলো হলো- ফেডারেশনের অনুমতি ছাড়া কোনো
প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক বা অনলাইন সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া যাবে না। কোনো টক শো বা
সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হলে কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা আগে লিখিত অনুমতি নিতে হবে, ফেসবুক বা অন্য
কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত, কোচ বা অন্য কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে
কোনো ধরনের পোস্ট বা মন্তব্য করা যাবে না, আগামী তিন মাস কলিকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা
হবে। এই সময়ের মধ্যে ছোটখাটো কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গ হলেও তা স্থায়ী বহিষ্কারের কারণ হতে
পারে এবং শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ‘কারণ দর্শানো’ (শোকজ) নোটিশ ছাড়াই ফেডারেশন
চাইলে তাঁর ওপর পুনরায় বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করতে পারবে।
শুটার কলির এই সংকটের শুরু হয়েছিল ফেডারেশনের
সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে মানসিক নিগ্রহ ও অসদাচরণের অভিযোগ
তোলার পর। কলির সেই অভিযোগের সত্যতা পায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) তদন্ত কমিটি।
তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সাজ্জাদকে শুটিং থেকে নিষিদ্ধের সুপারিশ করা হয় এবং পদ
থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিস্ময়কর বিষয় হলো, যার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলো এবং যার দায়ে
অভিযুক্ত কর্মকর্তা শাস্তি পেলেন, সেই কলিকেই উল্টো ‘শৃঙ্খলাভঙ্গের’ অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে
এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে শুটিং ফেডারেশন। ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্তকে ক্রীড়াঙ্গনের
অনেকেই ‘প্রতিহিংসামূলক’
হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
কলির এই শাস্তি প্রত্যাহার প্রক্রিয়ায়
সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ফেডারেশনের
চিঠিতেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশ এবং কলির আবেদনের
প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর
নাম চিঠিতে যেভাবে নজিরবিহীনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে ক্রীড়া মহলে খানিকটা
বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের খবর শুনে কামরুন
নাহার কলি জানান, তিনি বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফেডারেশনের
কোনো চিঠি হাতে পাননি।
দেশের অন্যতম সেরা এই নারী শুটার অলিম্পিক
অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তির আওতাভুক্ত। তাই তাঁর ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় অলিম্পিক
অ্যাসোসিয়েশনও ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল। এখন এই একগুচ্ছ শর্ত মেনে কলি
আবারও শুটিং রেঞ্জে নিজেকে কতটা মানিয়ে নিতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

