নাহিদ রানা
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দেশজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতার পর এবার তার সামনে উকি দিচ্ছে বিদেশের মাটিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের শিরোপা জয়ের স্বাদ। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল খেলার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পেয়েছেন তিনি। আগামী ৩ মে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে পেশোয়ার জালমির জার্সিতে মাঠে নামবেন তিনি।
নিউজিল্যান্ড সিরিজ শেষে নাহিদ রানাকে
পিএসএলে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই ধোঁয়াশা ছিল। বিসিবির
পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আগামী মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট
সিরিজের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। তবে পেশোয়ার জালমি
কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুরোধ এবং খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত বিকাশের কথা বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে
নমনীয় হয়েছে বোর্ড।
বিসিবির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো
হয়, “একটি বৈশ্বিক
ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার গুরুত্ব এবং খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনা
করেই তাকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে। বিসিবির চিকিৎসক দল ও টিম ম্যানেজমেন্ট তার ফিটনেস
পরীক্ষা করে সবুজ সংকেত দিয়েছে।” নাহিদ রানার এনওসি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পেশোয়ার
জালমির স্বত্বাধিকারী জাভেদ আফ্রিদি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স' (সাবেক টুইটার)-এ
এক পোস্টে তিনি বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি তামিম ইকবালকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
আফ্রিদি লেখেন, “পিএসএলের ফাইনালে নাহিদ রানাকে খেলার অনুমতি দেওয়ার জন্য তামিম ভাইকে
অসংখ্য ধন্যবাদ।”
এবারের পিএসএল দিয়েই প্রথমবারের মতো বিদেশি
কোনো লিগে অভিষেক হয় নাহিদ রানার। নিলামে তাকে ৬০ লাখ রুপিতে দলে ভিড়িয়েছিল পেশোয়ার
জালমি। সুযোগ পেয়েই নিজের গতির ঝড়ে কাবু করেছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের। দেশে ফেরার
আগে পেশোয়ারের হয়ে ৫ ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি শিকার করেছেন ৭টি উইকেট। উইকেট পাওয়ার চেয়েও
বেশি নজর কেড়েছে তার মিতব্যয়ী বোলিং। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই যুগে নাহিদ রানার ইকোনমি
রেট ছিল অবিশ্বাস্য; মাত্র ৫.৪২। তার এই নিয়ন্ত্রিত বোলিং পেশোয়ারকে কোয়ালিফায়ারে ইসলামাবাদ
ইউনাইটেডকে ৭০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
আগামী ৩ মে লাহোরে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে
পেশোয়ারের প্রতিপক্ষ কে হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে টিকে
আছে মুলতান সুলতান্স, হায়দ্রাবাদ কিংসম্যান ও ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। তবে প্রতিপক্ষ যেই
হোক না কেন, নাহিদ রানার অন্তর্ভুক্তি পেশোয়ারের বোলিং আক্রমণকে কয়েক গুণ শক্তিশালী
করবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

