ফিফা বিশ্বকাপ
৪৮টি দেশের জন্য কর ছাড়ের ঘোষণা মার্কিন ট্রেজারির
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫২
আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্যাক্স বা কেন্দ্রীয় কর থেকে অব্যাহতি পেতে যাচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক মাসের নিবিড় লবিং এবং আলোচনার পর ফিফা মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কাছ থেকে এই বিশেষ ছাড়ের প্রতিশ্রুতি আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় কর মওকুফ হচ্ছে, তবে আয়োজক শহর ও অঙ্গরাজ্যগুলোর স্থানীয় করের বোঝা দলগুলোকে বহন করতে হতে পারে।
কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই মেগা ইভেন্টকে সামনে রেখে শুরু থেকেই কর সংক্রান্ত জটিলতা ভাবিয়ে তুলছিল অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে। ফিফা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত 'ওয়ার্ল্ড কাপ টাস্কফোর্স'-এর মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পর এই অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে।
জানা গেছে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের
'ইন্টারনাল রেভিনিউ কোড'-এর সেকশন ৫০১(সি)(৩) এর অধীনে জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে
কর অব্যাহতি প্রাপ্ত সংস্থা হিসেবে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে। যদিও আবেদন করলেই তা
মঞ্জুর হওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা নেই, তবে ফিফার সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সঠিক প্রক্রিয়া
অনুসরণ করলে এই ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল।
সেকশন ৫০১(সি)(৩)-এর অধীনে কর মওকুফ পেতে
হলে সংস্থাগুলোকে কিছু কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি শেয়ারহোল্ডার
এই অর্থ থেকে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে পারবে না এবং সংস্থাটিকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক
কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া চলবে না। সাধারণত একটি দেশের জাতীয় ফুটবল গভর্নিং বডি এই শর্তগুলো
অনায়াসেই পূরণ করতে সক্ষম হয়। উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের মার্কিন বিশ্বকাপের সময় থেকেই ফিফা
নিজে যুক্তরাষ্ট্রে কর অব্যাহতি প্রাপ্ত সংস্থার মর্যাদা ভোগ করে আসছে। তবে এবারই প্রথম
সংস্থাটি তার সদস্য দেশগুলোর জন্যও একই ধরনের সুবিধা আদায়ের পথে রয়েছে।
গত মাসে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য গার্ডিয়ান'
একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, অনেক দেশ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল বা
সেমিফাইনালে পৌঁছেও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছে। এর প্রধান কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের
চড়া ট্যাক্স রেট এবং অতিরিক্ত ভ্রমণ ও হোটেল খরচ। কানাডা এবং মেক্সিকো আগেই তাদের দেশে
খেলা দেশগুলোর জন্য কর মওকুফের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এই সুবিধা না থাকায়
দলগুলো ফিফার ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল যেন প্রাইজমানি এবং অংশগ্রহণ ফি বাড়ানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের
এই পদক্ষেপে এখন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কয়েক মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে।
ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিলের
সাম্প্রতিক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, প্রাইজমানির পরিমাণ ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা
হবে। এর ফলে এখন মোট প্রাইজমানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৭১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৪৫ মিলিয়ন
পাউন্ড), বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া প্রতিটি দেশ এখন নিশ্চিতভাবে অন্তত ১২.৫ মিলিয়ন ডলার
(প্রায় ১৫০ কোটি টাকা) করে পাবে। এই বর্ধিত অর্থ এবং কর মওকুফের সুবিধা ছোট দেশগুলোর
জন্য বড় অবলম্বন হয়ে দাঁড়াবে, যারা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে অংশ নিতে গিয়ে বিশাল বাজেটের
চাপে থাকে।
ট্যাক্স নিয়ে খুশির খবরের পাশাপাশি ফিফা
খেলোয়াড়দের আচরণের বিষয়েও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। জানা গেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে কোনো
খেলোয়াড় যদি মাঠের ভেতরে মুখ ঢেকে (যেমন মাস্ক বা রাজনৈতিক প্রতীক দিয়ে) প্রতিবাদ জানান
কিংবা প্রতিবাদের অংশ হিসেবে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান, তবে তাদের সরাসরি 'লাল কার্ড' দেখানোর
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফিফা চায় খেলাটিকে শতভাগ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে, বিশেষ করে
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে। ফেডারেল ট্যাক্স মওকুফ হলেও
দলগুলোর অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন অঙ্গরাজ্য ও শহরগুলোর নিজস্ব কর নীতি।
যুক্তরাষ্ট্র একটি ফেডারেল রাষ্ট্র হওয়ায় অনেক শহরের (যেমন নিউইয়র্ক বা লস অ্যাঞ্জেলেস)
নিজস্ব বিনোদন বা আয়কর আইন রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চূড়ান্ত সাশ্রয় কতটুকু হবে তা
নির্ভর করবে কোন দল কোন শহরে তাদের ম্যাচগুলো খেলছে তার ওপর।
ফুটবল বিশ্বের বিশ্লেষকরা এই সমঝোতাকে
ফিফার একটি বড় রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি
ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই জটিল আর্থিক সংকট সমাধানে ত্বরান্বিত ভূমিকা রেখেছে
বলে মনে করা হয়। ফিফার একজন মুখপাত্র এই ট্যাক্স আলোচনার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে
রাজি হননি, তবে জানিয়েছেন যে আলোচনা এখনও চলমান এবং খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
এই কর মওকুফের ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপ কেবল ইতিহাসের বৃহত্তম বিশ্বকাপই হবে না, বরং অংশগ্রহণকারী
দেশগুলোর জন্য এটি আর্থিকভাবে সবচেয়ে লাভজনক টুর্নামেন্ট হিসেবেও রেকর্ড হবে বলে আশা
করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

