শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রধান ও নির্বাহী কমিটির পদত্যাগ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫৫
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড
ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং জনরোষের মুখে শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) বর্তমান পর্ষদ। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং সরকারের প্রত্যক্ষ চাপে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন বোর্ড সভাপতি শাম্মি সিলভাসহ নির্বাহী কমিটির সকল সদস্য।
মঙ্গলবার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত তিন ঘণ্টার
এক রুদ্ধশ্বাস বৈঠক শেষে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের পক্ষ
থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বুধবার থেকেই শাম্মি সিলভার পদত্যাগ কার্যকর হচ্ছে।
একই সঙ্গে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বোর্ডের সকল নির্বাহী সদস্য। বিষয়টি ইতিমধ্যে দেশটির
প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে এবং ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা গামাগেকে অবহিত
করা হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরেই শাম্মি সিলভার কমিটির
ওপর পদত্যাগের চাপ ছিল। বিশেষ করে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ক্রিকেট বোর্ডের আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ও বোর্ড কর্তাদের
মধ্যে এক রুদ্ধশ্বাস বৈঠকে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ বিদায়ের’ প্রস্তাব দেওয়া হয়। অন্যথায় সরকার কঠোর আইনি
প্রক্রিয়ায় বোর্ড ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। মূলত আইসিসির নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতেই
সরকার সরাসরি বোর্ড না ভেঙে কর্মকর্তাদের পদত্যাগে বাধ্য করার কৌশল নেয়।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে থিলাঙ্গা সুমাথিপালার
স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন শাম্মি সিলভা। এরপর টানা সাত বছর তিনি লঙ্কান ক্রিকেটের হর্তাকর্তা
হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আশ্চর্যজনকভাবে টানা চার মেয়াদের মধ্যে তিনবারই তিনি বিনা
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা নিয়ে দেশটির ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা
ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ ছিল। তার আমলেই শ্রীলঙ্কার পুরুষ ও নারী দল এশিয়া কাপ জিতলেও,
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলটির পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। বিশেষ করে
২০২৪ ও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লঙ্কানদের ভরাডুবি সিলভার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়।
লঙ্কান সরকারের পরবর্তী পরিকল্পনা হলো
একটি ক্লিন ইমেজের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করা। এই কমিটির প্রধান হিসেবে দেশটির
সাবেক সংসদ সদস্য এরান উইক্রামারাত্নের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও কমিটিতে
রাখা হতে পারে দেশটির ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি সিদাথ ওয়েত্তিমুনি এবং রোশান মহানামাকে।
মূলত বোর্ডের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করাই হবে এই কমিটির
মূল লক্ষ্য।
চলতি মাসের শুরুতে বিশ্বখ্যাত কোচ গ্যারি
কার্স্টেনকে লঙ্কান পুরুষ দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার
চেষ্টা করেছিলেন শাম্মি সিলভা। কিন্তু বোর্ডের অভ্যন্তরে দুর্নীতির শিকড় এতটাই গভীরে
ছিল যে, কোচ পরিবর্তন করেও নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি দমানো সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

