তিলি কর্টিন-কোলম্যান
১৮ বছর বয়সী তিলি কর্টিন-কোলম্যানের জন্য দিনটি ছিল সাধারণ আর দশটা দিনের মতোই। নিজের চার পোষা কুকুরকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন তিনি। এমন সময় তার ফোনে একটি কল আসে—যে কলটি তার জীবন চিরতরে বদলে দিয়েছে।
ফোনের ওপার থেকে ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেট
দলের প্রধান কোচ চার্লট এডওয়ার্ডস জানালেন, তিলি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড
স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন। বর্তমানে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আলোচনার নাম এই
বাঁহাতি স্পিনার। এখনও আন্তর্জাতিক অভিষেক না হলেও সরাসরি বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়া তিলির
গল্পটা কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়।
বিশ্বকাপের খবরটি যখন পান, তখন তার অনুভূতি
কেমন ছিল? বিবিসির সাথে আলাপকালে তিলি বলেন, “আমি পুরোই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। সবকিছু
এত দ্রুত ঘটে গেল যে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। মনে সবসময় একটু আশার আলো ছিল, কিন্তু সত্যি
বলতে ইংল্যান্ডের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোয়াডে সুযোগ পাব, সেটা স্বপ্নেও ভাবিনি।”
খবরটি পাওয়ার পর তিলি সোজা দৌড়ে বাড়ি গিয়ে তার বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরেন। আনন্দের আতিশয্যে
সেই সময়ের অনেক স্মৃতিই এখন তার কাছে ঝাপসা।
তিলির উত্থানকে কেবল 'দ্রুত' বললে ভুল
হবে, এটি ছিল উল্কার মতো। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ২০২৪ সালে 'দ্য হান্ড্রেড' টুর্নামেন্টে
সাউদার্ন ব্রেভসের হয়ে অভিষেক হয় তার। আর প্রথম উইকেট হিসেবে তিনি শিকার করেছিলেন
অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি মেগ ল্যানিংকে। এই একটি উইকেটই বিশ্ব ক্রিকেটকে জানিয়ে দিয়েছিল—নতুন
এক নক্ষত্রের আগমন ঘটেছে। এবারের মৌসুমে সারে-র হয়ে চার ম্যাচে নয় উইকেট নিয়েছেন তিনি।
এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের ফলস্বরূপ গত মার্চের নিলামে ১ লাখ ৫ হাজার পাউন্ডের (প্রায়
১ কোটি ৬০ লাখ টাকা) বিশাল চুক্তিতে সাউদার্ন ব্রেভসেই থেকে যান তিনি।
ইংল্যান্ড কোচ চার্লট এডওয়ার্ডসের সঙ্গে
তিলির সম্পর্কটা অনেক পুরনো। কেন্ট অনূর্ধ্ব-১১ দলের হয়ে যখন তিলি প্রথম ক্যাপ পান,
সেটিও ছিল এডওয়ার্ডসের হাত থেকেই। এবার জাতীয় দলের টিকিটও পেলেন তার মাধ্যমেই। সাউদার্ন
ব্রেভসের অধিনায়ক জর্জিয়া অ্যাডামস তিলি সম্পর্কে বলেন, “তিলি আমার দেখা অন্যতম সতেজ তরুণ ক্রিকেটার।
তার মধ্যে একই সাথে একটি শিশুর সারল্য এবং পরিণত মানুষের পরিপক্কতা রয়েছে। গত দুই বছরে
তার জীবনে অনেক কিছু ঘটে গেছে, কিন্তু সে আজও সেই প্রথম দিনের তিলির মতোই বিনয়ী আছে।”
অ্যাডামস আরও জানান, সাউদার্ন ব্রেভসে
থাকার সময় তিলি তার ইংলিশ বুলডগ কুকুরটির দেখভাল করার জন্য জেদ ধরতেন, যাতে কুকুরটি
কোনো দুষ্টুমি না করে। তিলির এই কুকুর-প্রীতি ড্রেসিংরুমের পরিবেশকেও আনন্দময় করে রাখে।
ইংল্যান্ড দলে বর্তমানে আরও দুই তারকা বাঁহাতি স্পিনার রয়েছেন—সোফি একলেস্টোন এবং লিনসি
স্মিথ। তবুও তিলিকে দলে নেওয়ার পেছনে বিশেষ কিছু কারণ দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্বের এক
নম্বর বোলার সোফি একলেস্টোনের উচ্চতা ২.২ মিটার।
অন্যদিকে লিনসি স্মিথের উচ্চতা ১.৮ মিটার।
২ মিটার উচ্চতার তিলি এই দুইয়ের মাঝে একটি দারুণ ভারসাম্য তৈরি করেছেন, যা বৈচিত্র্য
আনতে সাহায্য করবে। তিলি প্রতি ডেলিভারিতে গড়ে ১.৭৫ ডিগ্রি টার্ন করাতে পারেন, যা লিনসি
স্মিথের (১ ডিগ্রি) চেয়ে বেশি। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিলি তার মোট বলের ৪০ শতাংশই করেছেন
পাওয়ারপ্লে-তে।
এছাড়া তিনি মূলত প্রথম সারির ব্যাটারদের
আউট করতে ওস্তাদ। তার নেওয়া উইকেটের ২৩টিই এসেছে ১ থেকে ৩ নম্বর পজিশনের ব্যাটারদের
বিপক্ষে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিলি এখনও আনকোরা
হওয়ায় তার বোলিং অনেক দলের কাছেই ‘রহস্য’ হয়ে থাকবে। এটিকেই নিজের বড় অস্ত্র
মনে করছেন তিনি। তিলি বলেন, “আমি চাপের মুখে পারফর্ম করতে পছন্দ করি।
সোফি এবং লিনসির মতো বিশ্বসেরা বোলারদের
পাশে থাকাটা আমার শেখার জন্য বড় সুযোগ। আমি একটু কৌতূহলী মানুষ, তাই সারাক্ষণ তাদের
প্রশ্নে বিরক্ত করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি!”
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

