সিলেটের আকাশ মেঘলা থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের পারফরম্যান্স ছিল একেবারেই অনুজ্জ্বল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ২১ রানে হেরে সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত
নিলেও লঙ্কান ব্যাটারদের দাপুটে ব্যাটিং এবং বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারের মন্থর গতির
কারণে ঘরের মাঠে আরও একটি সিরিজ হারের তিক্ত স্বাদ নিতে হলো নিগার সুলতানা জ্যোতির
দলকে।
ম্যাচটি হারলেও বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার
সুলতানা জ্যোতি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। শুক্রবার টস করতে নামার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি
দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ড গড়েন।
সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতুনের ৬৫ ম্যাচের রেকর্ড টপকে জ্যোতি ৬৬তম ম্যাচে বাংলাদেশকে
নেতৃত্ব দিলেন। তবে ব্যক্তিগত এই অর্জন ম্লান হয়ে গেছে দলের পরাজয়ে।
টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই
উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তবে সফরকারী দলের অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু ও হারশিথা সামারাবিক্রমার
ব্যাটে চড়ে বড় সংগ্রহের দিকে এগোতে থাকে তারা। আতাপাত্তু ৩৭ বলে ৪২ রান করে ভিত্তি
গড়ে দেন। ইনিংসের শেষদিকে হারশিথা সামারাবিক্রমা ২৯ বলে ৪৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস
খেলেন, যেখানে ছিল ৪টি চার ও ২টি ছক্কার মার। এ ছাড়া ইমেশা দুলানির ২৭ এবং নিলাক্ষী
ডি সিলভার অপরাজিত ২২ রানের কল্যাণে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রানের চ্যালেঞ্জিং
স্কোর দাঁড় করায় লঙ্কানরা।
বাংলাদেশের পক্ষে নাহিদা, ফারিহা, সুলতানা
ও ঋতু মণি একটি করে উইকেট নেন। ১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে কোনো
উইকেট না হারিয়ে ৪৬ রান তুলে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার দিলারা
আক্তার (২৩) ও জুওয়াইরিয়া ফেরদৌস (২৯) আক্রমণাত্মক মেজাজেই ছিলেন। কিন্তু সপ্তম ওভারে
জুটি ভাঙার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার।
সবচেয়ে হতাশাজনক ছিল বাংলাদেশের তিন গুরুত্বপূর্ণ
ব্যাটারের রান আউট। অধিনায়ক জ্যোতি (৭), সোবহানা মোস্তারি (০) এবং জুওয়াইরিয়া—এই তিনজনের
রান আউট বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। শারমিন আক্তার সুপ্তা এক প্রান্ত আগলে রাখলেও
তার ব্যাটিং ছিল টি-টোয়েন্টির মেজাজের বিপরীতে। ৪৭ বল খেলে তিনি অপরাজিত থাকেন ৪৪ রানে।
শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রানে থামে
বাংলাদেশের ইনিংস। লঙ্কান স্পিনার কাভিশা দিলহারি ১৫ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত
হন। ২০২৩ সালে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ১৪৬ রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ নারী
দল, যা ছিল তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। আজ জিতলে সেই রেকর্ড
ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল টাইগ্রেসদের সামনে। কিন্তু দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং
ও ফিল্ডারদের ভুলে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।
তিন ম্যাচের সিরিজে শ্রীলঙ্কা এখন ২-০
ব্যবধানে এগিয়ে। আগামী ২ মে একই ভেন্যুতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত
হবে। সেই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য এখন কেবলই হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াই। ওয়ানডে সিরিজে
২-১ ব্যবধানে হারের পর টি-টোয়েন্টিতেও এমন পারফরম্যান্স বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের
বর্তমান অবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

