ক্রিকেটারদের ফিটনেস–সম্মত খাবার দেবে বিসিবি: তামিম ইকবাল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ২১:১৫
তামিম ইকবাল
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং জমজমাট আসর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগ (ডিপিএল)। দীর্ঘ সময় ধরে এই টুর্নামেন্টের মধ্যাহ্নভোজের মেনু ছিল অনেকটা চিরাচরিত বাঙালি ভোজের মতো—পাহাড়সমান ভাত, আলু ভর্তা আর চর্বিযুক্ত গরুর মাংস। তবে আধুনিক ক্রিকেটের দাবি মেনে এবং ক্রিকেটারদের শারীরিক সক্ষমতা বা ফিটনেসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবার এই প্রথায় আমূল পরিবর্তন আনছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট
স্টেডিয়ামে ডিপিএলের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এই যুগান্তকারী
পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। আগামী ৪ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া এবারের ডিপিএলে ক্রিকেটারদের
জন্য বিসিবির পক্ষ থেকে ফিটনেস-সম্মত এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরি পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত
করা হবে। এতদিন ডিপিএলের দলগুলো নিজেদের ব্যবস্থাপনায় দুপুরের খাবারের আয়োজন করত। সেখানে
খাবারের পুষ্টিগুণের চেয়ে উদরপূর্তিকেই প্রাধান্য দেওয়া হতো বেশি।
বিষয়টি নিয়ে বিসিবি সভাপতি এবং সাবেক দেশসেরা
ওপেনার তামিম ইকবাল কড়া সমালোচনা করে বলেন, “আমরা আগে ফিটনেস নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলতাম,
কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করতাম। কিন্তু দেখা যেত, ফিটনেস টেস্ট শেষ করার ঠিক পরেই ক্রিকেটারদের
পাতে দেওয়া হতো আলু ভর্তা, গরুর মাংস আর ভাত। আপনি যদি ফিটনেস নিয়ে চিন্তিত হন, তবে
আপনাকে খাবারের দিকটাও কাভার করতে হবে।”
এবারের আসর থেকে বিসিবি নিজেই খাবারের
দায়িত্ব নিচ্ছে। ভারী ভাতের বদলে মেনুতে জায়গা পাচ্ছে গ্রিল চিকেন, সালাদ ও প্রোটিন
সমৃদ্ধ খাবার। তামিম স্বীকার করেন যে, ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য হঠাৎ এই খাদ্যাভ্যাস
পরিবর্তন করা কঠিন হতে পারে। তিনি বলেন, “আমি জানি, হঠাৎ করে ভাতের অভ্যাস থেকে
গ্রিল চিকেনে নিয়ে আসা সহজ হবে না। জাতীয় দল বা ‘এ’ দলের ক্রিকেটাররা এতে অভ্যস্ত হলেও
অন্যদের জন্য এটি চ্যালেঞ্জিং। তবে আমরা চেষ্টা করব যাতে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে এবং উন্নত
মানে রান্না নিশ্চিত করা যায়।”
কেবল খাবারই নয়, ক্রিকেটারদের মাঠের নিরাপত্তায়ও
এবার কঠোর হচ্ছে বিসিবি। গত মৌসুমে ডিপিএলে খেলা চলাকালীন খোদ তামিম ইকবাল অসুস্থ হয়ে
পড়েছিলেন। বিকেএসপিতে সেই সময় পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাবে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির
সৃষ্টি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বিসিবি প্রতিটি ভেন্যুতে উচ্চমানসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্সের
ব্যবস্থা করছে। তামিম জানান, প্রিমিয়ার লীগের ছয়টি ভেন্যুর প্রতিটিতে আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন
অ্যাম্বুলেন্স থাকবে।
তিনি বলেন, “এটা বিসিবির দায়িত্ব যে মাঠে সবাই নিরাপদ
থাকবে। আমাদের প্রতিটা মাঠেই অন্তত ৪ থেকে ৫টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে
যাতে জরুরি মুহূর্তে কোনো ক্রিকেটারকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যায়।”
এবারের ডিপিএল থেকে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী
কঠোর নিয়মকানুন অনুসরণ করা হবে। আম্পায়ারিং এবং মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিসিবি বদ্ধপরিকর।
এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক দুরবস্থার কথাও উঠে আসে বিসিবি সভাপতির কণ্ঠে। সাম্প্রতিক
সময়ে প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগের ক্রিকেটারদের পেশা ছেড়ে রিকশা চালানো বা ফুচকা বিক্রির
মতো খবর গণমাধ্যমে আসার প্রেক্ষিতে তামিম বলেন, “আমরা চাই না কোনো প্রতিভা এভাবে ঝরে যাক।
আর্থিকভাবে যাতে খেলোয়াড়রা লাভবান হয় এবং তারা যেন সম্মানের সাথে ক্রিকেট খেলতে পারে,
সেই পরিবেশ আমরা নিশ্চিত করতে চাই।”
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

