পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ইতিহাস গড়তে চাই: সিমন্স
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ২১:১৭
ফিল সিমন্স
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সাদা পোশাকের লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ। আগামীকাল শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে টাইগাররা। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে তাদের হোয়াইটওয়াশ করার সেই সোনালি স্মৃতি এখনো ভক্তদের মনে অমলিন।
তবে টাইগারদের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স সেই
স্মৃতিকে কেবলই ‘অতীত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার লক্ষ্য এখন মিরপুরের স্পিন ও বাউন্সে নতুন
এক ইতিহাস রচনা করা। বুধবার মিরপুরে আয়োজিত প্রাক-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স তার
পরিকল্পনা, খেলোয়াড়দের মানসিকতা এবং দলের নতুন সংযোজন নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে
ঐতিহাসিক সিরিজ জয় ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্জন। কিন্তু সিমন্স
মনে করেন, সেই অর্জন থেকে কেবল আত্মবিশ্বাসটুকুই নেওয়া সম্ভব, বর্তমান সিরিজে তার কোনো
প্রভাব থাকবে না। তিনি বলেন, “পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করাটা অতীত। সেটা গত হয়ে গেছে। ওটা এখন ইতিহাস।
আমরা এখন বাংলাদেশে খেলছি, পাকিস্তানে নয়। আমাদের লক্ষ্য এখন শুক্রবারের ম্যাচে পূর্ণ
মনোযোগ দেওয়া এবং নতুন করে ইতিহাস গড়া।”
দেশের হয়ে শততম টেস্ট খেলা অভিজ্ঞ ব্যাটার
মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে আলাদাভাবে প্রশংসা ঝরল কোচের কণ্ঠে। এই সিরিজেই নিজের ১০১তম টেস্ট
ম্যাচটি খেলতে নামবেন মুশফিক। সিমন্স বলেন, “মুশফিককে আমি অল্প সময় ধরে চিনি, তবে এই
সময়েই বুঝেছি তার কাছে টেস্ট ক্রিকেটের গুরুত্ব কতটা। এটি তার ১ নম্বর টেস্ট হোক বা
১০০তম—সবই তার কাছে সমান। সে যেভাবে প্রতিটি ম্যাচের আগে প্রস্তুতি নেয়, তা বিস্ময়কর।
সে তার ১০১তম ম্যাচটিকেও আগের সব ম্যাচের মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।”
তরুণ পেস সেনসেশন নাহিদ রানার গতির ঝড়ে
ইদানীং কাবু হচ্ছেন অনেক বিশ্বসেরা ব্যাটার। রানাকে নিয়ে সিমন্সের মূল্যায়ন বেশ উঁচু।
তিনি বলেন, “নাহিদ রানার সবচেয়ে
ভালো দিক হলো তার বোঝার সক্ষমতা। সে জানে সে কোথায় আছে এবং মাঠে তার কাজটা কী।”
কোচের মতে, র্যাঙ্কিংয়ে উপরে উঠতে হলে
পাকিস্তানের মতো বিশ্বমানের বোলিং ইউনিটের বিপক্ষে লড়াই করেই বড় স্কোর গড়তে হবে। হোম
কন্ডিশনে উইকেট কেমন হবে তা নিয়ে নিশ্চিত না হলেও সিমন্স আশা করছেন, ব্যাটাররা দীর্ঘ
সময় ক্রিজে টিকে থাকার মানসিকতা দেখাবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ দল সাদা বলের ক্রিকেটে
ব্যস্ত থাকলেও টেস্টে মানিয়ে নেওয়া খুব একটা কঠিন হবে না বলে মনে করেন সিমন্স।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, “টেস্ট ক্রিকেট মূলত একটি মানসিক পরিবর্তনের
বিষয়। তবে দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছে যারা গত কয়েক মাস ধরে কেবল লাল বল নিয়ে কাজ করছে।
তাই ফরম্যাট পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়াটি যতটা কঠিন মনে হয়, আসলে ততটা নয়।”
বাংলাদেশ ক্রিকেটের হাই-পারফরম্যান্স
(এইচপি) ইউনিটের প্রধান কোচ হিসেবে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের দায়িত্ব নেওয়া নিয়ে ইতিবাচক
মন্তব্য করেছেন সিমন্স। উল্লেখ্য, পাকিস্তান সিরিজ শেষেই জাতীয় দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব
ছাড়ার কথা রয়েছে সালাউদ্দিনের।
এ বিষয়ে সিমন্স বলেন, “সালাউদ্দিনের এইচপিতে থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেটের
জন্য বড় উপকার বয়ে আনবে। তিনি জানেন আমরা জাতীয় দলে কী করতে চাই। তাই তিনি যখন পাইপলাইন
নিয়ে কাজ করবেন, নিচ থেকে আসা খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই দর্শনগুলো সহজেই গেঁথে দিতে পারবেন।”
এই সিরিজে দলে ডাক পেয়েছেন দুই নতুন মুখ।
তাদের অভিষেকের সম্ভাবনা নিয়ে কোচ বলেন,
“দলে তরুণদের আসা
সবসময়ই ইতিবাচক। আজ বৃহস্পতিবার আমরা চূড়ান্ত একাদশ নিয়ে বসব। সুযোগ সবার জন্যই আছে,
তবে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।”
মিরপুরে শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া এই টেস্টটি
কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের আধিপত্য ধরে রাখার
পরীক্ষা। চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিদায়ের পর সিমন্সের হাত ধরে বাংলাদেশ আবারও পাকিস্তানের
বিপক্ষে দাপট দেখাতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

