Logo

খেলা

মিয়ানমার উইমেন্স লিগে ডাক পেলেন ঋতুপর্ণা

Icon

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ২১:২০

মিয়ানমার উইমেন্স লিগে ডাক পেলেন ঋতুপর্ণা

ঋতুপর্ণা চাকমা

বাংলাদেশের নারী ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ঋতুপর্ণা চাকমা গড়তে যাচ্ছেন আরও একটি নতুন ইতিহাস। সাবিনা খাতুন বা কৃষ্ণা রানী সরকাররা এর আগে ভারত, মালদ্বীপ কিংবা নেপালের লিগে খেললেও ঋতুপর্ণাই হতে যাচ্ছেন দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের কোনো দেশের ঘরোয়া লিগে নাম লেখানো বাংলাদেশের প্রথম নারী ফুটবলার।

মিয়ানমারের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ক্লাব আয়েয়াওয়াডি ইউনাইটেড’-এর সঙ্গে তিন মাসের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন এই বাঁ-হাতি ফরোয়ার্ড। তবে তার এই স্বপ্নযাত্রার চূড়ান্ত সবুজ সংকেত এখন ঝুলে আছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অনুমোদনের ওপর।

মিয়ানমারের সঙ্গে ঋতুপর্ণা চাকমার সম্পর্কটা বেশ রোমাঞ্চকর। এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে মিয়ানমারের মাটিতেই স্বাগতিকদের বিপক্ষে জোড়া গোল করে রূপকথা লিখেছিলেন ঋতু। সেই ম্যাচে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল।

মিয়ানমার জয় করা সেই ঋতুপর্ণাকেই এবার নিজেদের লিগে ভেড়াতে মুখিয়ে আছে দেশটির সেরা ক্লাব আয়েয়াওয়াডি। মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঋতুর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে তার বিধ্বংসী দূরপাল্লার শটগুলো নজর কেড়েছে মিয়ানমারের ফুটবল বিশ্লেষকদের।

আয়েয়াওয়াডি ইউনাইটেড মাত্র দুই বছর আগে নারী ফুটবল কার্যক্রম শুরু করলেও ইতোমধ্যেই তারা মিয়ানমারের ফুটবলে নিজেদের পরাশক্তি হিসেবে প্রমাণ করেছে। প্রথম মৌসুমে তৃতীয় হওয়ার পর গত মৌসুমে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ঋতুপর্ণাকে তারা মূলত ২০২৬-২৭ ঘরোয়া লিগের জন্য তিন মাসের চুক্তিতে নিচ্ছে। সব ঠিক থাকলে আগামী ২৫ মে ভারতের গোয়ায় শুরু হতে যাওয়া নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শেষে ১২ জুন ঋতুপর্ণার মিয়ানমার যাওয়ার কথা। ঋতুপর্ণা নিজেও এই সুযোগ নিয়ে উচ্ছ্বসিত।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, মিয়ানমার লিগে খেলার বিষয়ে আমি অত্যন্ত আগ্রহী এবং ক্লাবের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। বিদেশের লিগে খেলার অভিজ্ঞতা সবসময়ই আলাদা।”

ঋতুপর্ণা চুক্তিবদ্ধ হলেও তার মিয়ানমার যাওয়া এখনো শতভাগ নিশ্চিত নয়। এর পেছনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচি। বাফুফের নারী উইং কমিটির সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরণ জানিয়েছেন, আগে জাতীয় দলের স্বার্থ দেখতে হবে। তিনি বলেন, সাফ থেকে ফিরে জুনে এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ঋতুপর্ণা বাফুফের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়। জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনো কার্যক্রম বা ক্যাম্প থাকলে তাকে মিয়ানমারে খেলার অনুমতি নাও দেওয়া হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি।”

ঋতুপর্ণা চাকমা এর আগেও বিদেশের মাটিতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। তিনি ভুটানের ঘরোয়া লিগে পারো এফসি’ এবং রয়েল থিম্পু কলেজ’ (আরটিসি)-এর হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন। আরটিসি-র জার্সিতে তিনি এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইরানের বাম খাতুন এফসি’-র বিপক্ষে গোল করার কৃতিত্ব দেখান।

 বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা এর আগে মালদ্বীপ, ভারত, ভুটান ও নেপালের লিগে খেলেছেন। মিয়ানমারের লিগটি টেকনিক্যালি এবং ফিজিক্যালি দক্ষিণ এশিয়ার লিগগুলোর তুলনায় বেশ শক্তিশালী। ফলে সেখানে খেলতে পারা ঋতুর ব্যক্তিগত দক্ষতার উন্নতির পাশাপাশি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্যও একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন