অধিকার আদায়ে ‘গ্র্যান্ড স্ল্যাম’ বয়কটের হুঙ্কার সাবালেঙ্কার
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ২১:২৩
আরিনা সাবালেঙ্কা
টেনিস দুনিয়ায় বিদ্রোহের সুর। প্রাইজমানি এবং অধিকার আদায়ের দাবিতে প্রয়োজনে গ্র্যান্ড স্ল্যামের মতো আসরও বয়কট করতে পারেন বর্তমান বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তারকারা। ইতালিয়ান ওপেন শুরুর আগে রোমে সংবাদ সম্মেলনে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বর্তমান বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর তারকা আরিনা সাবালেঙ্কা।
তার মতে, খেলোয়াড়দের দাবি মানা না হলে
অদূর ভবিষ্যতে বড় কোনো টুর্নামেন্টে ধর্মঘট বা বয়কটের ঘটনা ঘটা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
সাবালেঙ্কা বলেন, “আমার মনে হয় কোনো এক সময় আমরা সবাই মিলে
গ্র্যান্ড স্ল্যাম বয়কট করব। আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই করার এটাই হয়তো একমাত্র পথ।
এই পুরো শো বা বিনোদন আমাদের ওপর ভিত্তি করেই চলে। আমরা ছাড়া কোনো টুর্নামেন্ট হবে
না, আর সেখানে কোনো বিনোদনও থাকবে না।”
২৮ বছর বয়সী এই চারবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম
জয়ী আরও যোগ করেন, বর্তমান সময়ে নারী খেলোয়াড়রা ঐক্যবদ্ধ হতে পারছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে
খেলোয়াড়দের প্রতি টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষের আচরণ ‘অন্যায্য’। সাবালেঙ্কার এই বয়কট বার্তায়
পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন চতুর্থ র্যাঙ্কধারী আমেরিকান তারকা কোকো গফ। তিনি বলেন, “যদি সবাই এক হয়ে কাজ করে এবং সবার সম্মতি
থাকে, তবে আমি ১০০ ভাগ গ্র্যান্ড স্ল্যাম বয়কটের পক্ষে থাকব। বড় পরিবর্তন আনতে হলে
আমাদের একটি শক্তিশালী ইউনিয়নের মতো কাজ করতে হবে।”
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন এলেনা রিবাকিনাও
জানিয়েছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড় বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলে তিনি তাতে যোগ দিতে রাজি আছেন।
তবে বিশ্বের তিন নম্বর তারকা ইগা সোয়াতেক এবং বর্তমান উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন প্রাইজমানি
বাড়ানোর দাবিকে সমর্থন করলেও বয়কটের পথকে ‘চরম পন্থা’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে,
বয়কটের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খোঁজা উচিত।
চলতি বছর ফরাসি ওপেন কর্তৃপক্ষ তাদের প্রাইজমানি
৯.৫% বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু শীর্ষ খেলোয়াড়রা এতে মোটেও সন্তুষ্ট নন। তাদের দাবি,
টুর্নামেন্ট থেকে অর্জিত আয়ের অন্তত ২২% খেলোয়াড়দের প্রাইজমানি হিসেবে দেওয়া উচিত।
গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে প্রাইজমানি বেড়েছে প্রায় ১৬% এবং গত বছর ইউএস ওপেনে
বেড়েছিল ২০%। আগামী মাসে উইম্বলডন তাদের প্রাইজমানি ঘোষণা করবে, যার ওপর নির্ভর করছে
পরবর্তী পরিস্থিতি। ব্রিটিশ তারকা এমা রাডুানু অবশ্য নিজেকে এই বয়কট থেকে দূরে রাখার
ঘোষণা দিয়েছেন।
অসুস্থতার কারণে রোম ওপেন থেকে নামিয়ে
নেওয়া এই খেলোয়াড় বলেন, “আমি বয়কটের অংশ হবো না। আমার কাছে গ্র্যান্ড স্ল্যাম মানেই টেনিস। এটি
এমন কিছু দেয় যা টাকা দিয়ে কেনা সম্ভব নয়।” এদিকে র্যাঙ্কিংয়ের পাঁচ নম্বরে থাকা জেসিকা
পেগুলাও মনে করেন, বয়কট নয় বরং পুরুষ ও নারী খেলোয়াড়দের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাবি জানিয়ে যাওয়াটাই
সঠিক পথ।
আগামী ২৫ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া ফরাসি
ওপেনের (রোলাঁ গারো) আগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আলোচনা কোনো ইতিবাচক
ফল আনে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে ক্রীড়া বিশ্ব। যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে সাবালেঙ্কার
এই ‘বয়কট’ হুঙ্কার
টেনিস ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের জন্ম দিতে পারে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

