ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তামিম ইকবাল
বাংলাদেশ কখনোই ভারতের জন্য হুমকি ছিল না
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ২০:৫৯
আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে যে নজিরবিহীন শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে এবার সরাসরি উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন বিসিবির বর্তমান অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তামিম স্পষ্ট করেছেন যে, আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব ছিল এবং বাংলাদেশে ভারতীয় দলের জন্য কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি কখনোই ছিল না।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ
না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে শুরু থেকেই ‘ভুল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছেন তামিম। এই
অবস্থানের কারণে তাঁকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ভারতের দালাল’ তকমাও পেতে হয়েছে। তবে নিজের
অবস্থানে অনড় থেকে তামিম বলেন, “বিসিবির বিগত কমিটি বিষয়টি যেভাবে সামলেছে, তা ঠিক হয়নি। আইসিসি নমনীয়
ছিল এবং সমাধানের সুযোগ ছিল। আমাদের উচিত ছিল সেই সুযোগটি কাজে লাগানো।” তিনি আক্ষেপের
সুরে ১৯৯৬-৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়ের স্মৃতি চারণ করে বলেন, “কেনিয়ার বিপক্ষে জিতে বিশ্বকাপে জায়গা
পেতে আমাদের কতটা লড়াই করতে হয়েছে তা সবার জানা। সেই জয়ই পুরো প্রজন্মকে ক্রিকেটে টেনে
এনেছিল। অথচ আমরা সঠিক কোনো আলোচনা ছাড়াই একটি বিশ্বকাপ ছেড়ে দিলাম! ওই দলে এমন কিছু
তরুণ ক্রিকেটার ছিল যাদের জন্য হয়তো এটাই ছিল শেষ সুযোগ। বিষয়টি আমি মানসিকভাবে মেনে
নিতে পারিনি।”
বিসিসিআই সভাপতি মিথুন মিনহাসের সঙ্গে
নিজের ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তামিম জানান, মাঠের বাইরের এই বন্ধুত্বকে
তিনি দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক উন্নয়নে কাজে লাগাতে চান। তিনি বলেন, “মিথুন আর আমি আইপিএলে একই দলে খেলেছি।
তিনি বহুবার ঢাকায় লিগ খেলতে এসেছেন। আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক দারুণ। দায়িত্ব নেওয়ার
পর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সাথে বসা হয়নি, তবে আমি বিশ্বাস করি আলোচনার মাধ্যমে সব
দূরত্ব ঘোচানো সম্ভব।”
বাংলাদেশে ভারতের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে
চলা গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে বিসিবি প্রধান বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি
অত্যন্ত স্থিতিশীল। ভারতীয় দলের জন্য এখানে কখনোই কোনো হুমকি ছিল না। বরং তারা যখন
এখানে খেলতে আসে, পুরো স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এখানকার মানুষ ভারত-বাংলাদেশ
প্রতিদ্বন্দ্বিতা দারুণ উপভোগ করে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের
মধ্যে এখন আর কোনো বাস্তব সমস্যা আছে। একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ আয়োজনই হতে পারে সম্পর্ক
এগিয়ে নেওয়ার সেরা উপায়।”
আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ সম্পর্কে ইতিবাচক
মনোভাব পোষণ করে তামিম বলেন, “ভারতীয় অনেক ক্রিকেটারের কাছে তাঁর সম্পর্কে ভালো কথা শুনেছি। আমি আইসিসিকে
একটি বড় পরিবারের মতো দেখি যেখানে ১২-১৫টি দেশ একে অপরের খেয়াল রাখে। ক্রিকেটকে কেবল
মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত, এখানে অন্য কিছুর স্থান নেই।” উল্লেখ্য, বাংলাদেশ
বিশ্বকাপ বর্জন করলে পাকিস্তানও সংহতি জানিয়ে টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। সেই
রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তামিম সতর্ক জবাব দেন, “আমি সেই আলোচনার মূল অংশ ছিলাম না। তবে
যাই ঘটুক, দিনশেষে ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের ক্ষতি হয়েছে—এটাই আমার কাছে বড় সত্য।”
কেন বাংলাদেশে একটি অ্যাড-হক কমিটি গঠনের
প্রয়োজন হলো, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তামিম। তিনি জানান, আগের নির্বাচন ছিল
চরম প্রশ্নবিদ্ধ এবং সাবেক বোর্ডের কিছু পরিচালকের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ
ছিল। ঢাকা লিগের প্রায় ৫০টি ক্লাব বিসিবির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এবং ক্রিকেটাররা
পারিশ্রমিক না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন শুরু করায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ হস্তক্ষেপ করতে
বাধ্য হয়। তামিম বলেন, “ক্রিকেটাররা আবার রিকশা চালানো বা ফুচকা বিক্রির মতো কাজে ফিরে যাচ্ছিল।
পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে পড়েছিল। আমার লক্ষ্য খুব পরিষ্কার—আমি ৬০ দিনের মধ্যে একটি
স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে চাই। আমি ব্যর্থ হতে পারি, কিন্তু অন্তত ভালো কিছুর জন্য
চেষ্টা করতে তো কোনো বাধা নেই।”
সাক্ষাৎকারের শেষে তামিম আশাবাদ ব্যক্ত
করেন যে, খুব দ্রুতই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের আলোচনা শুরু
হবে। তাঁর মতে, আইপিএল বা বিশ্বকাপের মতো ইস্যুগুলো নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা কেবল মাঠের
ক্রিকেটের মাধ্যমেই প্রশমিত করা সম্ভব। বাংলাদেশের ক্রিকেটে সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করাই এখন তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

