সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৩ উইকেট হারিয়ে ১১০ রান। প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে ভর করে ২৭৮ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদের গতি আর তাইজুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজের স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে ২৩২ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন বাবর আজম।
রোববার সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ১৫৬ রানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ দলের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম। দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও মেহেদি হাসান মিরাজ। প্রথম ইনিংসে পাওয়া ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেট হারিয়ে ১১০ রান। ৬৪ বলে ১০টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৫২ রান করে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়।
৪৬ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে খুররাম শেহজাদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে তানজিদ হাসান তামিম (৪) সাজঘরের পথ দেখলে ভাঙে ১৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। তবে মুমিনুলকে নিয়ে জয়ের আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে আর চাপে পড়তে হয়নি স্বাগতিকদের।
আগের তিন ইনিংসে ব্যাট হাতে ব্যর্থ ডানহাতি এই ওপেনার দারুণ সব শটে ১০ চারে ৫৮ ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নেন। কিন্তু ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন তিনি। মোহাম্মদ আব্বাসকে ফ্লিক করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে থাকা ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ব্যক্তিগত ৫২ রানে। তার বিদায়ে ভাঙে ৭৬ রানের জুটিটি।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে কোনো বিপদ ছাড়াই দিনের খেলা শেষ করার পথে ছিলেন মুমিনুল। কিন্তু দিনের ২ বল বাকি থাকতে ৩০ রান করা বাঁহাতি এই ব্যাটার কট বিহাইন্ড হলে তা আর হয়নি। সেখানেই দিনের খেলার ইতি টানেন আম্পায়াররা। শান্ত ১৩ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন।
এর আগে বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করা পাকিস্তানের বাবর আজম ছাড়া কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। ইনিংস সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৮ রান আসে ৯ নম্বরে নামা সাজিদ খানের ব্যাট থেকে। তার ৪ ছক্কা ও ২ চারের ইনিংসে প্রথম ইনিংসের ব্যবধান পঞ্চাশের নিচে নামাতে পারে সফরকারীরা। এই দুই ব্যাটারকেই ফেরান নাহিদ রানা।
আগের দিনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানো তো দূর, আজ ব্যাটিংয়ে আবারও হতাশ করেছে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে ৪৬ রান দূরে থাকতেই গুটিয়ে যায় তারা। বাংলাদেশ লিড পায় ৪৬ রানের। পাকিস্তানের পক্ষে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন বাবর আজম। উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ এক ফিফটি তুলে নেন তিনি। তবে বাকি ব্যাটসম্যানদের কেউ তাঁকে ওই অর্থে দীর্ঘ সঙ্গ দিতে পারেননি। শেষ দিকে সাজিদ খান ৩৮ রানের একটা ক্যামিও কিছুটা ব্যবধান কমিয়েছে দুই দলের রানের।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ শুরুটা করেছিল দারুণ আগ্রাসী মেজাজে। বিশেষ করে মাহমুদুল হাসান শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। দৃষ্টিনন্দন কিছু শটে দ্রুত রান তুলে ম্যাচটা পাকিস্তানের নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ফিফটি ছোঁয়ার পরপরই আলগা শটে নিজের উইকেট বিলিয়ে আসেন এই ওপেনার। দিনের একদম শেষভাগে এসে আউট হন মুমিনুল হকও। মাহমুদুলের পর মুমিনুলের এই বিদায় পাকিস্তানের বিষণ্ণ মুখে কিছুটা হলেও হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলেছে।
আজ তৃতীয় দিনে লিড আরো বাড়িয়ে পাকিস্তানকে কঠিন লক্ষ্য দিতে চাইবে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৭৭ ওভারে ২৭৮ অলআউট (লিটন ১২৬; খুররম ৪/৮১, আব্বাস ৩/৪৫)।
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৫৭.৪ ওভারে ২৩২ অলআউট (বাবর ৬৮, সাজিদ ৩৮; নাহিদ ৩/৬০, তাইজুল ৩/৬৭)।
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ২৬.৪ ওভারে ১১০/৩ (জয় ৫২, মুমিনুল ৩০, শান্ত ১৩*; খুররম ২/১৯, আব্বাস ১/২৯)।
* দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ১৫৬ রানে এগিয়ে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

