বিশ্বকাপ মিশন
কাওরু মিটোমার ইনজুরিতে জাপান দলের বড় ধাক্কা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ২০:৫৩
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এশিয়ান পরাশক্তি জাপান। গত চার বছরে জার্মানি, ব্রাজিল, স্পেন এবং অতি সম্প্রতি ওয়েম্বলিতে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে তারা।
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের
টিকিটও সবার আগে (আয়োজক দেশগুলো বাদে) নিশ্চিত করেছিল ‘সামুরাই ব্লু’। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে
দলের প্রধান তারকা কাওরু মিটোমার ইনজুরি জাপানের বিশ্বকাপ স্বপ্নে বড় ধরণের ধাক্কা
দিয়েছে। নক-আউট পর্বের চেনা গেরো (শেষ ১৬) পেরিয়ে জাপান এবার কতদূর যেতে পারবে, তা
নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
চলতি মে মাসের শুরুতে ইংলিশ প্রিমিয়ার
লিগে ব্রাইটনের হয়ে উলভসের বিপক্ষে খেলার সময় বাম পায়ের হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন
২৫ বছর বয়সী লেফট-উইঙ্গার কাওরু মিটোমা। গত মার্চে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে
জাপানের ১-০ গোলের ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক ছিলেন তিনিই। মিটোমার এই চোটের কারণে বিশ্বকাপ
থেকে ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর জাপানের আক্রমণভাগের পুরো দায়িত্ব এখন এসে
পড়েছে রিয়াল সোসিয়েদাদের ২৪ বছর বয়সী রাইট-উইঙ্গার তাকেফুসা কুবোর ওপর।
চলতি মৌসুমে স্প্যানিশ লা লিগায় দুর্দান্ত
ফর্মে থাকা কুবো তার ক্লাবকে কোপা দেল রে ট্রফি জেতাতে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। মিটোমার
অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে কুবো জাপানি গণমাধ্যমে বলেন, "মিটোমার চোটের খবরটি অত্যন্ত
হতাশাজনক। ও আমাদের দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। আমি মাঠে মিটোমার অভাব পূরণ করতে
নিজের সর্বোচ্চ উজাড় করে দেব এবং আরও বড় দায়িত্ব নিয়ে খেলব।"
প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর অধীনে জাপান
দল রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক—উভয় কৌশলেই সমান পারদর্শী। ইনজুরি কাটিয়ে দুই বছর পর আর্সেনালের
সাবেক ও বর্তমানে আয়াক্সের ডিফেন্ডার তাকেহিরো তোমিয়াসুর ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে ফেরা
রক্ষণভাগকে বিশাল শক্তি জুগিয়েছে। মাঝমাঠে দলের নেতৃত্বে থাকছেন অভিজ্ঞ ওয়াতারু এন্দো,
যিনি রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখতে সিদ্ধহস্ত। তার সঙ্গে
ক্রিস্টাল প্যালেসের দাইচি কামাদা এবং লিডস ইউনাইটেডের আও তানাকা মাঝমাঠে গতি ও সৃজনশীলতার
জোগান দেবেন। আক্রমণভাগে সেল্টিকের হয়ে স্কটিশ লিগ জেতা দাইজেন মায়েদা দারুণ ফর্মে
আছেন, যিনি চলতি মৌসুমে ১৪টি গোল ও ৬টি অ্যাসিস্ট করেছেন। তবে স্কোয়াডে বিশ্বমানের
একজন প্রথাগত ‘আউট অ্যান্ড আউট’
স্ট্রাইকারের অভাব রয়েছে, যা কাউন্টার-অ্যাটাকের সময় জাপানের জন্য কিছুটা ভোগান্তির
কারণ হতে পারে।
২০২৬ বিশ্বকাপে জাপান খেলবে গ্রুপ ‘এফ’-এ। এই গ্রুপে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ
নেদারল্যান্ডস। ডাচদের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়েই আগামী ১৪ জুন টেক্সাসের ডালাসে জাপানের
বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। গ্রুপের বাকি দুই প্রতিপক্ষ তিউনিসিয়া (২০ জুন, মেক্সিকো)
এবং সুইডেন (২৫ জুন, ডালাস)-এর বিরুদ্ধে সামুরাই ব্লু ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামবে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, গ্রুপ পর্বের বাধা অনায়াসে পার করলেও নক-আউটের দ্বিতীয় ধাপে বা
কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানের দৌড় থমকে যেতে পারে।
একনজরে জাপানের বিশ্বকাপ স্কোয়াড: গোলরক্ষক-
জায়ন সুজুকি, কেইসুকে ওসাকো, তোমোকি হায়াকাওয়া। রক্ষণভাগ (ডিফেন্ডার)- ইউতো নাগাতোমো,
শোগো তানিগুচি, কো ইতাকুরা, সুয়োশি ওয়াতানাবে, তাকেহিরো তোমিয়াসু, হিরোকি ইতো, আইয়ুমু
সেকো, ইউকিনারি সুগাওয়ারা, জুন্নোসুকে সুজুকি। মধ্যমাঠ (মিডফিল্ডার)- ওয়াতারু এন্দো,
জুনিয়া ইতো, দাইচি কামাদা, রিতসু দোয়ান, আও তানাকা, কাইশু সানো, তাকেফুসা কুবো, ইউইতো
সুজুকি। আক্রমণভাগ (ফরোয়ার্ড)- দাইজেন মায়েদা, কোকি ওগাওয়া, আয়াসে উয়েদা, কেইতো
নাকামুরা, কেন্তো শিওগাই, কেইসুকে গোতো।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

