Logo

খেলা

বাংলাদেশের নতুন কোচ মার্কিন কিংবদন্তি থমাস ডুলি

Icon

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ২০:৫৭

বাংলাদেশের নতুন কোচ মার্কিন কিংবদন্তি থমাস ডুলি

থমাস ডুলি

ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নবনিযুক্ত প্রধান কোচ থমাস ডুলি। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন ৬৫ বছর বয়সী এই হাইপ্রোফাইল ট্যাকটিশিয়ান। বিমানবন্দরে ঘণ্টামাসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান এবং সরাসরি টিম হোটেলে নিয়ে যান।

দীর্ঘ চার বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর লাল-সবুজের ডাগআউটের নতুন কান্ডারি হিসেবে ডুলিকে বেছে নিয়েছে বাফুফে। তিনি ঢাকায় পৌঁছানোর পরপরই ফেডারেশনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী রোববার থেকেই আসন্ন আন্তর্জাতিক উইন্ডো ও বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ক্যাম্প নিয়ে শিষ্যদের সঙ্গে মাঠে নেমে পড়বেন এই জার্মান বংশোদ্ভূত মার্কিন কিংবদন্তি।

থমাস ডুলির জীবন ও ফুটবল ক্যারিয়ার বেশ বৈচিত্র্যময়। ১৯৬১ সালে জার্মানিতে জন্ম নেওয়া ডুলি একজন মার্কিন সেনাসদস্যের সন্তান হওয়ায় জার্মানির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলারও যোগ্যতা অর্জন করেন। ক্লাব ফুটবলে মূলত ডিফেন্ডার ও রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে মাঠ কাঁপানো ডুলি জার্মান পেশাদার লিগে (বুন্দেসলিগা) ১৪ বছর কাটিয়েছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি এফসি কাইজারস্লাউটার্নের হয়ে ১৯৯০ সালে জার্মান কাপ এবং ১৯৯০–৯১ মৌসুমে বুন্দেসলিগা শিরোপা জেতেন। এছাড়া বায়ার লেভারকুসেনের পাশাপাশি ১৯৯৭ সালে এফসি শালকের হয়ে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে ঐতিহাসিক উয়েফা কাপ (বর্তমানে ইউরোপা লিগ) জয়ের স্বাদ পান। ১৯৯৭ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব কলম্বাস ক্রিউতে নাম লেখান।

জার্মান ক্লাব ফুটবলে সফল হলেও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৮১টি ম্যাচ খেলে ৭টি গোল করেছেন ডুলি। ১৯৯০-এর দশকে মার্কিন ফুটবলের অন্যতম সেরা এই তারকা ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে স্বাগতিক দলের হয়ে প্রতিটি ম্যাচের প্রতিটি মিনিট মাঠে ছিলেন। এরপর ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ১৯৯৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপে তার হাতে ওঠে মার্কিন জাতীয় দলের নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড। ২০০০ সালে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানো এই কিংবদন্তিকে ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সকার হল অব ফেমে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। খেলোয়াড়ি জীবনের মতোই ডুলির ডাগআউটের বা কোচিং ক্যারিয়ারও বেশ সমৃদ্ধ। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম কিংবদন্তি ইউর্গেন ক্লিন্সম্যানের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন, যা তাকে আধুনিক ফুটবলের রণকৌশল সম্পর্কে গভীর জ্ঞান দিয়েছে।

এরপর প্রধান কোচ হিসেবে ডুলি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইন জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর কাজ করেন এবং রীতিমতো ইতিহাস লেখেন। তার অধীনে ফিলিপাইন দল সম্পূর্ণ অপরাজিত থেকে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় এবং ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়। ২০২২ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তিনি আবারও ফিলিপাইনের ডাগআউটে ফিরেছিলেন। এছাড়া ফুটবলের কাঠামোগত উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাড়াতে তিনি ভিয়েতনামের শীর্ষ ভি-লীগের ক্লাব ভিয়েতেল’-এর স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি লাতিন আমেরিকার দেশ গায়ানা জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন, যেখানে তার অধীনে খেলা ৪টি ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছিল গায়ানা।

 

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন