ভিনিসিউসের জোড়া গোল
স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ সেরা ব্রাজিল নকআউটে
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭
ছবি: সংগৃহীত
স্কটল্যান্ডকে ৩–০ গোলে উড়িয়ে ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে উঠেছে ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরের এ ম্যাচের আগে সমীকরণ ছিল একই গ্রুপ থেকে মরক্কো ও ব্রাজিল দুই দলই নিজ নিজ ম্যাচে জিতলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে আসবে গোলের হিসাব। আটলান্টায় একই সময় শুরু হওয়া ‘সি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ৪–২ গোলে জেতে মরক্কো।
কিন্তু মায়ামি স্টেডিয়াম থেকে কার্লো আনচেলত্তির দলের আটলান্টার স্কোরলাইনের খোঁজখবর নেওয়ার দরকার হয়নি।
তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে আছে ব্রাজিল। মরক্কোরও ৭ পয়েন্ট, গোল পার্থক্যে দুই নম্বরে থেকে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দলটি।
৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্কটল্যান্ড। সব ম্যাচেই হেরে বিদায় নিল হাইতি।
ব্রাজিলের হয়ে দুটি গোল করেছেন ভিনিসিউস জুনিয়র। আর অন্য গোলদাতা মাতেউস কুইয়া।
প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে শুরুতেই দলকে এগিয়ে নেন ভিনিসিউস জুনিয়র। দারুণ ছন্দে থাকা তারকা পরে গোল করলেন আরেকটি। প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে খেলতে নামলেন নেইমার।
৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে ১২টি গ্রুপের প্রথম দুটি দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় দল নিয়ে হবে নকআউটের প্রথম ধাপ- রাউন্ড অব ৩২। এই আট দলের একটি হওয়ার সম্ভাবনা টিকে থাকল স্কটল্যান্ডের।
প্রথম দুই ম্যাচের চেয়ে ব্রাজিলের খেলায় আরও উন্নতি দেখা গেছে এই ম্যাচে। ৫৪ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২১টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখতে পারে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। স্কটল্যান্ডের ১৪ শটের পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল।
প্রতিপক্ষের মারাত্মক ভুলের সুযোগে সপ্তম মিনিটে ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন ভিনিসিউস। গোলরক্ষকের থেকে পাস বক্সে পেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাকেনা। তার শটে বল ব্রাজিলের হায়ানের পায়ে লেগে বক্সেই ফাঁকায় পান ভিনিসিউস। এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে কাটিয়ে ফাঁকা জালে পাঠান রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।
ব্রাজিলের পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করার কীর্তি গড়লেন ভিনিসিউস। আগের চার জনের ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল- ১৯৭০ সালে জাইরজিনিয়ো, ১৯৯৪ সালে রোমারিও এবং ২০০২ সালে রোনালদো ও রিভালদো।
২২তম মিনিটে স্কটল্যান্ডের আরেকটি ভুলে আবার বল জালে পাঠিয়ে উদযাপনে মাতেন ভিনিসিউস। তবে ভিএআরে মনিটরে দেখে গোল দেননি রেফারি। স্কটল্যান্ডের জ্যাক হেনড্রির থেকে বল কেড়ে নেওয়ার সময় তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছিলেন ভিনিসিউস, ফাউল।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে দুই দলের। তবে বক্সে গিয়ে সুবিধা করতে পারছিল না কেউ। ৩৮তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে উড়িয়ে মারেন হায়ান। চার মিনিট পর মাতেউস কুইয়াও বক্সের বাইরে থেকে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে আরেকটি সুযোগ পায় ব্রাজিল। ডান দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে ভিনিসিউসের কাট-ব্যাকে কুইয়ার প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডার হেনড্রি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনিসিউস। ব্রুনো গিমারেসের ক্রস এগিয়ে গিয়ে লাফিয়ে ক্লিয়ারের চেষ্টায় বলের নাগাল পাননি স্কটিশ গোলরক্ষক। দূরের পোস্টে হেডে ফাঁকা জালে বল পাঠান ভিনিসিউস।
এবারের বিশ্বকাপে তার গোল হলো চারটি।
একটু পর আবার গোল পেতে পারত ব্রাজিল। এবার বক্সের ভেতর থেকে হায়ানের শট এগিয়ে এসে দারুণ দক্ষতায় ব্যর্থ করে দেন স্কটল্যান্ড গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধে আর মাঠে নামেননি স্কটল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসন। তার জায়গায় নামেন কিয়েরান টিয়ারনি।
৪৯তম মিনিটে প্রথম কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ্যে রাখতে পারে স্কটল্যান্ড। তবে স্কট ম্যাকটমিনের হেডে বল যায় সরাসরি গোলরক্ষক আলিসনের গ্লাভসে।
দুই মিনিট পর হ্যাটট্রিকের সুযোগ পান ভিনিসিউস। দ্রুতগতিতে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, কিন্তু ঠিকমতো শট নিতে পারেননি, তার আগেই ছুটে এসে বল ধরে ফেলেন গোলরক্ষক।
স্কটল্যান্ডের দুটি পেনাল্টির আবেদন রেফারি নাকচ করে দেওয়ার পর, ৬০তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করে ফেলে ব্রাজিল। পাশে থাকা স্কটল্যান্ডের এক খেলোয়াড়কে ছিটকে ফেলে, আরেকজনকে কাটিয়ে গিমারেস বক্সে খুঁজে নেন কুইয়াকে। এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান ২৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
৬৫তম মিনিটে প্রথমবার আলিসনের কঠিন পরীক্ষা নিতে পারে স্কটল্যান্ড। ম্যাকটমিনের আরেকটি হেড ফিরিয়ে দেন লিভারপুল গোলরক্ষক।
৭৬তম মিনিটে দর্শকদের তুমুল করতালির মধ্য কুইয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের হয়ে খেলতে নামলেন দলটির রেকর্ড গোলস্কোরার।
চার মিনিট পর আরেকবার হ্যাটট্রিকের সুযোগ আসে ভিনিসিউসের সামনে। এবারও তার শট ফিরিয়ে তাকে হতাশ করেন স্কটিশ গোলরক্ষক।
শেষ দিকে ব্যবধান কমানোর আরেকটি সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড। দারুণ সেভে ম্যাকটমিনের আরেকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন আলিসন।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

