ছবি: সংগৃহীত
সময়ের ব্যবধান ৪০ বছরের। মেক্মিকোর মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে অনেক তরুণেরই সেই জয় অদেখা। মেক্সিকোর বয়স্ক সমর্থকদের কথা আলাদা। তাদের অনেকের মনেই বুলগেরিয়ার বিপক্ষে চার দশক আগের সে জয়ের স্মৃতি টাটকা। বিশ্বকাপের নকআউটে এত দিন সেটাই ছিল মেক্সিকোর সর্বশেষ জয়।
বুধবার (১ জুলাই) সেই একই স্টেডিয়ামে (আজতেকা) ইকুয়েডরের বিপক্ষে মেক্সিকোর ২–০ গোলের জয়। শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে নকআউট ম্যাচটি জিতে শেষ ষোলোয় উঠেছে স্বাগতিকেরা। এবারের বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকো সর্বশেষ স্বাগতিক ছিল ১৯৮৬ আসরে। সেবার শেষ ষোলোয় বুলগেরিয়ার বিপক্ষে একই ব্যবধানে (২–০) জিতেছিল মেক্সিকো।
মাঝের ৪০ বছরে বিশ্বকাপে কখনো নকআউট ম্যাচ জিততে না পারার ‘অভিশাপ’ এবার কাটালেন রাউল হিমিনেজ–হুলিয়ান কিনিয়োনেসরা।
ঝড়-বৃষ্টির বাগড়া বড্ড ভুগিয়েছে। আজতেকা স্টেডিয়ামে অপেক্ষা ফুরাচ্ছিল না। খেলাও শুরু হলো পাক্কা এক ঘণ্টা পর। কিন্তু ফল নির্ধারণ করতে মেক্সিকো সময় নিল মোটে ৩১ মিনিট।
১৯৮৬ সালে শেষ ষোলোতে বুলগেরিয়াকে হারানোর পর নকআউট পর্বে টানা সাতবার হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল মেক্সিকোর। ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪ এবং ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর প্রতিটি ম্যাচেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
বিশ্বকাপের শেষ ৩২ এর লড়াইয়ে আজতেকায় শুরু থেকেই দাপট দেখায় মেক্সিকো। প্রথমার্ধেই হুলিয়ান কিনিয়োনেস ও রাউল হিমিনেজের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় হাভিয়ের আগুইরের দল। বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রেখে সহজ জয় নিশ্চিত করে তারা।
এই জয়ে শেষ ষোলোতে মেক্সিকো মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড অথবা ডিআর কঙ্গোর। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী রোববার, মেক্সিকো সিটিতেই। আজ রাত দশটায় কঙ্গোর বাধা সামলাবে ইংলিশরা।
মেক্সিকো সিটিতে বজ্রঝড়ের কারণে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচের কিক-অফ এক ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। তবে খেলা শুরু হতেই ঝড় তোলে স্বাগতিকরা। প্রথম ১০ মিনিটেই চারটি গোলের সুযোগ তৈরি করে। ইকুয়েডরের জন ইয়েবোয়া একবার পোস্টে বল মারলেও পুরো ম্যাচজুড়ে মেক্সিকোর গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি তারা।
১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর কোনো ম্যাচে এতটা আক্রমণাত্মক সূচনা করেনি মেক্সিকো। তারই পুরস্কার আসে দ্রুত। কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া উইঙ্গার হুলিয়ান কিনিয়োনেস বাম প্রান্ত দিয়ে ঢুকে দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এটি ছিল টুর্নামেন্টে তার তৃতীয় গোল।
কিছুক্ষণ পরই গোলদাতার ভূমিকায় থেকে সতীর্থকে দিয়ে গোল করান কিনিয়োনেস। ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার হোয়েল অরদোনিয়েসের ভুলের সুযোগ নিয়ে রাউল হিমিনেজ দারুণ ফিনিশে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
বিরতির পর ইকুয়েডর কিছুটা ভালো খেললেও গনসালো প্লাতার বাইরে মারা শটই ছিল তাদের সেরা সুযোগ। ফলে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি তারা। হতাশার ম্যাচের শেষটাও ভালো হয়নি ইকুয়েডরের।
যোগ করা সময়ে প্রতিপক্ষের মুখ চেপে ধরে কথা বলায় ভিএআর পর্যালোচনার পর লাল কার্ড দেখেন পিয়েরো হিনকাপিয়ে। টুর্নামেন্টে এ ধরনের ঘটনায় লাল কার্ড দেখা দ্বিতীয় খেলোয়াড় হলেন তিনি। ম্যাচের ফলও ইকুয়েডরের পক্ষে আসেনি।
এ জয়ে আজতেকায় বিশ্বকাপে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত রইল মেক্সিকো। এবারের আসরে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার পাশাপাশি গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচই জেতা তিনটি দলের একটি ছিল মেক্সিকো। গ্রুপ পর্বে তারা কোনো গোলও হজম করেনি। সেই দাপট ধরে রেখেই শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে ম্যাচটি জিতল স্বাগতিকেরা।
মেক্সিকোর নকআউট ‘অভিশাপ’ কাটানোর এ ম্যাচে একাদশে সুযোগ পেয়ে ইতিহাস গড়েন ১৭ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা। ১৯৫৮ আসরে পেলের পর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে শুরুর একাদশের হয়ে মাঠে নামার কীর্তি গড়েন মোরা।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

