Logo

খেলা

আমরা চুপ থাকতে পারি না, আর্জেন্টিনার সঙ্গে ম্যাচ নিয়ে মিসর

Icon

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১৬:১৫

আমরা চুপ থাকতে পারি না, আর্জেন্টিনার সঙ্গে ম্যাচ নিয়ে মিসর

ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচের পর এবার মাঠের বাইরের বিতর্ক আরও চরম রূপ নিয়েছে। বিতর্কিত রেফারিংয়ের অভিযোগে এরই মধ্যে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। 

এবার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় দলের সঙ্গে হওয়া এমন অন্যায্য ও পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে তারা কোনোভাবেই নীরব থাকবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল হজম করে বিদায় নেয় মিসর। ম্যাচ শেষে প্রধান কোচ হোসাম হাসান ও মিসরের খেলোয়াড়রা একাধিক রেফারিং সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন। সেই ক্ষোভ এবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতেও তুলে ধরেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

বিবৃতিতে ইএফএ বলেছে, ‘মিসর জাতীয় দলের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা এমন কোনো বিষয় নয়, যেটিকে হালকাভাবে নেওয়া যায়। এটি আমাদের দায়িত্ব এবং আমরা সেই দায়িত্ব পূর্ণ দৃঢ়তা ও বিশ্বাসের সঙ্গে পালন করে যাব।’

ইএফএর অভিযোগ, ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং ভিএআর দল প্রযুক্তির সঠিক ও নিরপেক্ষ ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে ৫৮তম মিনিটে মারওয়ান আতিয়ার ফাউলের অভিযোগে মোস্তফা জিকোর গোল বাতিলের সিদ্ধান্তই তাদের সবচেয়ে বড় আপত্তির জায়গা।

মিসরের অভিযোগের পর রেফারিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ফিফার রেফারিং কমিটির চেয়ারম্যান ও কিংবদন্তি সাবেক রেফারি পিয়েরলুইজি কলিনা। তিনি বলেন, ‘ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা হতেই পারে। কিন্তু ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত অভিযোগের কোনো জায়গা ফুটবলে নেই। ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুধু তাদের নয়, তাদের পরিবারের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করতে পারে।’

একই সঙ্গে বিতর্কিত গোল বাতিলের সিদ্ধান্তেরও ব্যাখ্যা দেন কলিনা। তিনি বলেন, ‘ভিএআর প্রটোকলে ফাউল গোলপোস্ট থেকে কত দূরে হয়েছে বা কত সেকেন্ড আগে হয়েছে, এমন কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। যদি আক্রমণের ধারাবাহিকতার শুরুতেই ফাউল করে বলের দখল নেওয়া হয়, তাহলে ভিএআর রেফারিকে সেটি পর্যালোচনার পরামর্শ দেবে। ওই ঘটনায় মারওয়ান আতিয়া স্পষ্টভাবে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ে বুট দিয়ে চাপ দিয়েছিলেন। ফাউল ফাউলই, রেফারি মাঠে না দেখলেও ভিএআর তা ধরতে পারে।’

ম্যাচের যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের পর ডাগআউটেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ফাউলের দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করায় মিসরের গোলকিপিং কোচ সাফান এল-সাগিরকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। পাশাপাশি প্রতিবাদ করায় মিসরের কয়েকজন খেলোয়াড়কেও হলুদ কার্ড দেওয়া হয়।

সেই সময় প্রধান কোচ হোসাম হাসানকে বুকের ওপর দুই হাত ক্রস করে ‘এক্স’ আকৃতির সংকেত দেখাতেও দেখা যায়, যা ফিফার বর্ণবাদবিরোধী আন্তর্জাতিক সংকেত হিসেবে পরিচিত। পরে সংবাদ সম্মেলনে হাসান অভিযোগ করেন, বাণিজ্যিক স্বার্থে মেসি ও আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

ইএফএ আরও দাবি করেছে, বিশ্বের কয়েকজন স্বনামধন্য ফুটবল বিশ্লেষকও বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাই তারা মনে করে, বিশ্ব ফুটবলে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন