ফুটবল বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেখে বিশ্বফুটবলের সাথে মুগ্ধ হয়েছেন স্পেনের তরুণ উইঙ্গার লামিন ইয়ামালও। সময়ের ঘড়িকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে যেভাবে মেসি একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, তাকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বার্সেলোনার এই ১৮ বছর বয়সী তারকা।
নকআউট পর্বের এক মহাকাব্যিক ম্যাচে মিশরের
বিপক্ষে প্রথমে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ৩-২ ব্যবধানের রূপকথার জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই
ম্যাচে অনন্য পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বর্তমানে এবারের বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়েও
সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন মেসি (৮টি গোল)।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এল মুন্দো দেপোর্তিভো’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে
লামিন ইয়ামাল বলেন, লিওনেল মেসির এই পারফরম্যান্স এক কথায় অবিশ্বাস্য। মেসি কে, সেটা
সবাই জানে। কিন্তু এই বয়সেও তিনি যে এতটা উচ্চমানের ফুটবল খেলবেন, তা কেউ আশা করেনি।
আমি তাঁর জন্য ভীষণ আনন্দিত।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে
৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ জেতাতে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন মেসি।
এরপর থেকে ইন্টার মিয়ামির এই ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা ৯টি ম্যাচে গোল করার
অনন্য রেকর্ড ধরে রেখেছেন। মজার ব্যাপার হলো, গত মরশুমে বার্সেলোনায় মেসির সেই ঐতিহাসিক
‘১০ নম্বর’ জার্সিটি
পেয়েছেন ইয়ামাল নিজেই।
সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশবের নায়কদের নিয়ে
আবেগঘন কথা বলেন এই তরুণ, মেসি ছাড়াও নেইমার এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো তারকাদের
এই বিশ্বকাপে খেলতে দেখাটা আমার জন্য সৌভাগ্যের। আমরা যারা এখন মাঠে খেলছি, আমাদের
সবার শৈশব গড়ে উঠেছে এই কিংবদন্তিদের খেলা দেখেই।
এবারের বিশ্বকাপ অনেক চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী
হচ্ছে। গত রোববার নকআউট পর্বে নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক
ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইনজুরির
কারণে মাঠের বাইরে থাকলেও এই বিশ্বকাপের মাধ্যমে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন ব্রাজিলের এই
সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৮০ গোল)।
অন্যদিকে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর একমাত্র
অধরা ট্রফি ‘বিশ্বকাপ’ জয়ের
স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে এই লামিন ইয়ামালের স্পেনই। গত সোমবার পর্তুগালকে ১-০
গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে স্পেন, যা ছিল ৪১ ছুঁইছুঁই রোনালদোর ক্যারিয়ারের
শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। তবে ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি বিশ্বকাপে গোল করার
এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল (১৪৬) ও সর্বোচ্চ ম্যাচের (২৩৩) রেকর্ড নিজের
করে বিদায় নিয়েছেন সিআরসেভেন।
নায়কদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেও নিজের লক্ষ্যের
ব্যাপারে পরিষ্কার ইয়ামাল, তাদের জীবনে ভালো কিছু ঘটলে আমারও ভালো লাগে। তবে আমি যদি
ফাইনালে উঠি, তবে অবশ্যই ট্রফিটা আমিই জিততে চাই।
ইনজুরি কাটিয়ে দীর্ঘ দুই মাস পর পর্তুগালের
বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইয়ামাল। নিজের পারফরম্যান্স
নিয়ে তিনি বলেন, আমি নিজের ওপর সবসময় একটু বেশিই কঠোর। গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্সে
আমি সন্তুষ্ট নই। তবে ম্যাচ যত গুরুত্বপূর্ণ হবে, অর্থাৎ সেমিফাইনাল বা ফাইনাল যত কাছে
আসবে, আমার খেলা তত নিখুঁত হবে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

