মেসির সৃজনশীলতা, আলভারেজের জাদু
সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১৫:০৪
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আরও একবার নিজেদের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিল। ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও টানটান উত্তেজনায় ভরা ম্যাচে আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ এবং লাউতারো মার্তিনেজের গোলে জয় তুলে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। গোল না পেলেও একটি গোল করিয়ে এবং অসাধারণ সৃজনশীল পারফরম্যান্সে দলের আক্রমণের নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। রক্ষণ ও মাঝমাঠের সমন্বিত পারফরম্যান্সে সুইসদের চাপে রাখে তারা। প্রথম গোলটি আসে মেসির নেওয়া বুদ্ধিদীপ্ত কর্নার থেকে, যা দারুণ এক হেডে জালে জড়িয়ে দেন আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। পরে অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজের শক্তিশালী শট আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে দেয়। শেষ মুহূর্তে লাউতারো মার্তিনেজ গোল করে সুইজারল্যান্ডের প্রত্যাবর্তনের সব সম্ভাবনাই শেষ করে দেন।
গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ পুরো ম্যাচে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে আর্জেন্টিনাকে ভরসা জুগিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের একমাত্র গোলটি ঠেকানোর সুযোগ তার হাতে খুব বেশি ছিল না। রক্ষণে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ছিলেন অন্যতম সেরা পারফর্মার। তিনটি সফল ড্রিবল, নয়টি কার্যকর ফরোয়ার্ড পাস এবং তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্সে আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই ভূমিকাতেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। ক্রিস্টিয়ান রোমেরোও বরাবরের মতো নির্ভরযোগ্য ছিলেন। বদলি হওয়ার আগে পাঁচবার বল পুনরুদ্ধার এবং দুটি ইন্টারসেপশন করেন। নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ও নাহুয়েল মলিনা রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণেও সমর্থন দেন, যদিও তাদের প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।
মাঝমাঠে আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার ছিলেন অন্যতম উজ্জ্বল নাম। গোল করার পাশাপাশি পুরো ম্যাচেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন। যদিও দুটি সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি, তবু আক্রমণে তার উপস্থিতি ছিল ধারাবাহিক। লিয়ান্দ্রো পারেদেস নিখুঁত পাসিং ও বল নিয়ন্ত্রণে মাঝমাঠের ছন্দ ধরে রাখেন। সর্বোচ্চ ১৩১ বার বল স্পর্শ করে ম্যাচে নিজের গুরুত্ব স্পষ্ট করেন। এনজো ফার্নান্দেজও দারুণ কিছু থ্রু-পাস এবং একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করে প্রশংসা কুড়ান। তবে রদ্রিগো দি পল নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ছিলেন না। মাঝমাঠে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে না পারায় তুলনামূলক কম রেটিং পেয়েছেন।
আক্রমণভাগে গোল না করেও ম্যাচের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন লিওনেল মেসি। তার কর্নার থেকেই আসে প্রথম গোল। পুরো ম্যাচে সর্বোচ্চ ছয়টি গোলের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি চারটি শট এবং তিনটি সফল ড্রিবল করে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন তিনি। হুলিয়ান আলভারেজ টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম গোলটি করেন অতিরিক্ত সময়ের ১১২তম মিনিটে দুর্দান্ত এক রকেট শটে, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বদলি হিসেবে নেমে লাউতারো মার্তিনেজও নিজের কাজটা নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করেন। মাত্র ৩৫ মিনিট মাঠে থেকেও একটি গোল করার পাশাপাশি আরও দুটি সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন।
ফুটবলভিত্তিক ওয়েবসাইট গোল ডটকম-এর ম্যাচ রেটিং অনুযায়ী আর্জেন্টিনার সেরা পারফর্মারদের মধ্যে ছিলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ—প্রত্যেকেই পেয়েছেন ৮/১০ রেটিং। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও এনজো ফার্নান্দেজ পেয়েছেন ৭/১০। বদলি নেমে লাউতারো মার্টিনেজ পেয়েছেন ৭.৫/১০, আর তাগলিয়াফিকো, মলিনা ও দি পল পেয়েছেন ৬/১০।
দুর্দান্ত দলীয় নৈপুণ্য, অভিজ্ঞতার ছাপ এবং কঠিন মুহূর্তে স্নায়ু ধরে রাখার সক্ষমতায় সুইজারল্যান্ডের বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। এখন শিরোপার পথে আরেকটি বড় পরীক্ষার অপেক্ষায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

