ছবি: সংগৃহীত
নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করছে উরুগুয়ে জাতীয় ফুটবল দল। রোববার (১২ জুলাই) উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, লা সেলেস্তের অন্তর্বর্তী প্রধান কোচ হয়েছেন দিয়েগো ফোরলান। ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর মার্সেলো বিয়েলসা পদত্যাগ করলে এই দায়িত্ব পান তিনি।
৪৭ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি সাবেক স্ট্রাইকারের সামনে এখন কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপে বড় প্রত্যাশা নিয়ে গিয়েও সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখানো একটি দলকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে তাকে।
স্পেন, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরবের পেছনে থেকে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হয় উরুগুয়ে। গ্রুপ পর্বের বাধাই পার হতে পারেনি দলটি। এই হতাশাজনক অভিযানের মধ্য দিয়েই শেষ হয় মার্সেলো বিয়েলসার দায়িত্বকাল। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সরে দাঁড়ান এই আর্জেন্টাইন কোচ।
উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিশ্চিত করেছে, ফোরলানের প্রাথমিক চুক্তি চলবে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত। এরপর তার পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে ফেডারেশন সিদ্ধান্ত নেবে, তার মেয়াদ বাড়ানো হবে নাকি পরবর্তী বিশ্বকাপ চক্রের জন্য নতুন কোচ আনা হবে।
জাতীয় সিনিয়র দলের পাশাপাশি উরুগুয়ে অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচের দায়িত্বেও থাকবেন ফোরলান। ২০২৭ সালের দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলবে এই দল। দেশের পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিভা তৈরিতে এই টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দিয়েগো ফোরলানের এই নিয়োগ প্রতীকী অর্থেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। উরুগুয়ের ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত এই সাবেক স্ট্রাইকার একসময় ছিলেন সেই প্রজন্মের কেন্দ্রবিন্দু, যারা লা সেলেস্তেকে আবার বিশ্ব ফুটবলের আলোচনায় নিয়ে এসেছিল।
২০১০ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফোরলানের পারফরম্যান্স এখনো উরুগুয়ের কোনো খেলোয়াড়ের সেরা পারফরম্যান্সগুলোর একটি। সেবার পাঁচ গোল করে এবং একাধিক ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স দিয়ে উরুগুয়েকে সেমিফাইনালে তোলেন তিনি। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বলও জেতেন ফোরলান। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি অন্যতম সম্মানজনক ব্যক্তিগত পুরস্কার।
ক্লাব ফুটবলেও সফল ছিলেন ফোরলান। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ভিয়ারিয়াল, আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন তিনি। ফিনিশিং দক্ষতা, শক্তিশালী শট, বহুমুখী প্রতিভা আর নেতৃত্বগুণে নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন তিনি।
খেলোয়াড় হিসেবে ফোরলানের সাফল্য অনেক হলেও কোচ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা এখনো তুলনামূলক কম। পেনিয়ারলে ১১টি ম্যাচ আর সিএ আতেনাসে মাত্র ১২টি সরকারি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি।
তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দলের হারানো প্রতিযোগিতামূলক পরিচয় ফিরিয়ে আনা। বিশ্বকাপে বিয়েলসার অধীনে ধারাবাহিকতা খুঁজে পেতে হিমশিম খেয়েছিল দলটি। এই আর্জেন্টাইন কোচের পরিচিত উচ্চ-তীব্রতার প্রেসিং আর আক্রমণাত্মক শৈলী মাঝেমধ্যে দেখা গেলেও, আক্রমণে দক্ষতার অভাব আর রক্ষণে একগাদা ভুলের কারণে শেষ পর্যন্ত দ্রুত বিদায় নিতে হয় উরুগুয়েকে।
বিশ্বকাপ অভিযান হতাশাজনক হলেও দলটিতে আছেন আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বেশ বড় মাপের কিছু খেলোয়াড়। সঙ্গে আছে নতুন এক প্রজন্মের প্রতিভাও, যারা দলকে আবার বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আর তরুণ প্রজন্মকে এক সুতোয় গাঁথাই হবে ফোরলানের মূল কাজ। পাশাপাশি বিশ্বকাপে হতাশ হওয়া দলটির আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়ে আনতে হবে তাকে।
ইতিহাস বলে, কঠিন সময়ের পর প্রায়ই শক্তিশালীভাবে ফিরে আসে উরুগুয়ে। ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালে দুবার বিশ্বকাপ জেতা এই দল ২০১০ সালেও সেমিফাইনাল খেলেছিল। এখন নিজেদের অন্যতম সেরা কিংবদন্তির হাত ধরে নতুন এক যুগে প্রবেশ করছে লা সেলেস্তে। লক্ষ্য একটাই, বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ দলগুলোর কাতারে আবার নিজেদের জায়গা করে নেওয়া।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

