ওডিআই বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট নিয়ে প্রশ্ন ডব্লিউসিএর
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ২০:৫৫
২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পুরুষ ওডিআই (৫০ ওভার) বিশ্বকাপের পরিধি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েও বিতর্কে জড়িয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। টুর্নামেন্টের নতুন ও জটিল ফরম্যাট নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিশ্ব ক্রিকেটারদের শীর্ষ সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (ডব্লিউসিএ)। সংগঠনটির মতে, এই ফরম্যাট ক্রিকেটের বৈশ্বিক সম্প্রসারণের লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং সহযোগী দেশগুলোর অধিকার খর্ব করবে।
২০২৩ সালের ১০ দলের বিশ্বকাপের পর ২০২৭
আসরে দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ১৪টি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আইসিসি। কিন্তু নতুন ফরম্যাট
অনুযায়ী, মূল পর্ব বা গ্রুপ পর্বে খেলবে মূলত ১২টি দল। র্যাংকিং বা কোয়ালিফায়ারের
তলানিতে থাকা শেষ ৩টি দল নিয়ে শুরুতে একটি প্রাথমিক রাউন্ড (ফার্স্ট রাউন্ড) খেলা হবে।
সেখান থেকে মাত্র ১টি দল গ্রুপ পর্বে যাওয়ার সুযোগ পাবে, বাকি ২টি দল টুর্নামেন্ট শুরুর
পরপরই বিদায় নেবে।
ডব্লিউসিএ এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে
যে, আইসিসির এই জটিল ফরম্যাট স্বচ্ছতা, খেলোয়াড়দের সাথে আলোচনা এবং ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি
বিশ্বায়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী টম
মফাত বলেন, ক্রিকেটকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার যে লক্ষ্য আইসিসি মুখে বলে, তার সাথে
এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেলে না। এটি এমন কিছু দেশের মূল আসরে খেলার সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে,
যারা বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চ থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারত।
সংগঠনটির মতে, কোয়ালিফাই করার পরও কিছু
দেশের জন্য এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকাপ অভিযান হবে না। কারণ তারা বড় এবং প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর
মুখোমুখি হওয়ার আগেই বিদায় নিতে পারে। এর ফলে উদীয়মান ক্রিকেট বাজারগুলোর খেলোয়াড়েরা
বড় ধরনের স্পোর্টিং ও বাণিজ্যিক ক্ষতি এবং উন্নয়নমূলক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্ব পার হওয়া ১টি দল বাকি ১১টি দলের সাথে যোগ দেওয়ার পর মোট ১২টি দল দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে (প্রতি গ্রুপে ৬ দল) খেলবে। এরপর দুই গ্রুপের শীর্ষ ৩টি করে দল এবং সামগ্রিকভাবে পরবর্তী সেরা ১টি দল—মোট ৭টি দল নিয়ে শুরু হবে ‘সুপার সেভেন’ রাউন্ড, যা আগের ‘সুপার সিক্স’ রাউন্ডের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে। এই সুপার সেভেন রাউন্ডের রাউন্ড-রবিন লিগ শেষে শীর্ষ ৪টি দল সেমিফাইনালে পা রাখবে। আইসিসি অবশ্য এই ফরম্যাটের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছে, এটি টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, গুরুত্ব এবং রোমাঞ্চ অনেক বাড়িয়ে দেবে।
তবে সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৪
দলের বিশ্বকাপে যেখানে প্রতিটি দল ন্যূনতম ৬টি করে ম্যাচ খেলার নিশ্চয়তা পেয়েছিল, সেখানে
২০২৭ সালের ফরম্যাটে তলানির দলগুলোর জন্য সেই সুযোগ থাকছে না। বর্তমানে ওডিআই র্যাংকিংয়ের
১২, ১৩ এবং ১৪ নম্বরে রয়েছে যথাক্রমে আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস।
আইসিসির এমন একপেশে সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ
করেছেন স্কটল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক রিচি বেরিংটন। ক্রিকেটারদের সাথে কোনো
আলোচনা না করেই এমন নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, খেলোয়াড়েরা এটা আশা
করে না যে প্রতিটি সিদ্ধান্ত তারাই নেবে। কিন্তু যেসব সিদ্ধান্ত খেলার ওপর এবং খেলোয়াড়দের
ক্যারিয়ারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, সেগুলোতে আমাদের সাথে অর্থপূর্ণ আলোচনা করা উচিত।
টেবিলে যখন বিভিন্ন পক্ষ ও ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করা হয়, তখনই কেবল
সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। আমরা আইসিসিকে অনুরোধ করব এখন থেকেই যেন তারা স্টেকহোল্ডার
ও খেলোয়াড়দের সাথে আলোচনা করার সংস্কৃতি সঠিকভাবে শুরু করে।
ডব্লিউসিএ-এর এই প্রকাশ্য সমালোচনার পর
আইসিসির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

