গোল্ডেন বলে চুমু খাচ্ছেন রদ্রি, ছবি: সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা নেমেছে। রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন।
এবার গোল্ডেন বুট জিতে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আলাদা করে লিখিয়ে নিলেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। কাতার বিশ্বকাপে গোল্ডেন বলজয়ী লিওনেল মেসি এবার ফিরলেন খালি হাতে। এমবাপ্পের সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে হেরে মেসিকে সন্তুষ্ট থাকতে হলো সিলভার বুট নিয়ে।
ওদিকে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন স্পেন দলের মিডফিল্ডার রদ্রি। চোখধাঁধানো গোল নেই, ঝলমলে ড্রিবলিং নেই— তবু গোটা টুর্নামেন্টে স্পেনের প্রতিটি জয়ের সুতো বাঁধা ছিল তার পায়েই। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স ও ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিমানবীয় খেলেছেন ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার।
ফাইনাল শেষে অনন্য রদ্রি নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলেন, ‘এখনো আমরা যেন বিশ্বাসই করতে পারছি না। মনে হচ্ছে যেন মেঘের ওপর ভাসছি। সত্যি বলতে, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’
বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা দুবার গোল্ডেন বুট জেতার কীর্তি এমবাপ্পের আগে কারও ছিল না। ১০ গোল আর ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি শেষ করলেন টুর্নামেন্ট, ছাড়িয়ে গেলেন কাতারে করা তার ৮ গোলের কীর্তি। ২২ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন ফরাসি অধিনায়ক। ২১ গোল নিয়ে শেষ হলো মেসির বিশ্বকাপ-অধ্যায়। ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে এই রেকর্ড শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যান কে জানে!
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ৬-৪ গোলের পাগলাটে হারেও এমবাপ্পে জ্বলে ওঠেন জোড়া গোল করে, আর তাতেই সোনার বুট অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তার। ফাইনালে মেসি নেমেছিলেন তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া ফাইনালে মেসির পা থেকে আর কোনো গোল বেরোল না। ৮ গোল আর ৪ অ্যাসিস্ট নিয়েই শেষ হলো তার এবারের টুর্নামেন্ট।
এবার ব্রোঞ্জ বুট গেল ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের কারিগর জুড বেলিংহামের কাছে। ৭ গোল আর ১ অ্যাসিস্ট তার। সমান ৭ গোল নরওয়ের আর্লিং হলান্ডেরও। তবে অ্যাসিস্টের হিসাবে বেলিংহাম এগিয়ে।
এমবাপ্পের ছুঁয়েছেন আরও একটা মাইলফলক। বিশ্বকাপের এক আসরে ১০ গোল—এমনটা এর আগে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৭০ সালে, জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার গড়েছিলেন সেই কীর্তি। ৫৬ বছর পর, আবার সেই সংখ্যায় পৌঁছালেন এমবাপ্পে। অবশ্য এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটা এখনো অক্ষত। ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সেরই জুস্ত ফন্তেইন করেছিলেন ১৩ গোল!
স্পেনের রক্ষণ নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসেই কথা হবে বহুদিন। টুর্নামেন্টে সাতটি ক্লিন শিট রেখে, মাত্র একটিমাত্র গোল হজম করে তাদের গোলরক্ষক উনাই সিমন জিতে নিলেন গোল্ডেন গ্লাভ। এই পথচলায় টানা ৬৪৯ মিনিট নিজের জাল অক্ষত রেখে বিশ্বকাপের নতুন রেকর্ড গড়েছেন বিলবাওয়ের গোলরক্ষক। আসলে প্রায় সব পুরস্কারে এবার স্পেনের জয়জয়কার। মাত্র ১৯ বছর বয়সী পাউ কুবারসি জিতেছেন এই বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার। টুর্নামেন্টজুড়ে স্পেনের রক্ষণকে দুর্গ বানিয়ে রেখেছিলেন বার্সেলোনার এই ডিফেন্ডার।
৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে একটা নতুন রীতিও চালু হলো এবার। চ্যাম্পিয়ন স্পেন দলকে ফিফা তুলে দিল চ্যাম্পিয়নশিপ রিং। সঙ্গে পাঁচ কোটি ডলার প্রাইজমানি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসেই সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

