খেলা হবে ১২ স্টেডিয়াম
ক্রিকেট বিশ্বকাপের ভেন্যু চূড়ান্ত
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ২০:৫৮
দীর্ঘ ২৪ বছরের বিরতি কাটিয়ে আবারও আফ্রিকান মহাদেশে ফিরতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট—আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। আগামী ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের ১৪তম এই আসরের জন্য আনুষ্ঠানিক ব্র্যান্ড, লোগো এবং আয়োজক ১২টি ভেন্যুর নাম উন্মোচন করেছে আইসিসি।
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সহ-আয়োজক তিন দেশ—দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার আয়োজক
শহরগুলোর নাম বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হয়।
‘থ্রি নেশন্স, ওয়ান হার্টবিট’ (তিন দেশ,
এক হৃদস্পন্দন) মূলমন্ত্র এবং আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী ‘উবুন্টু’ (আমি আছি কারণ আমরা আছি) দর্শনে
অনুপ্রাণিত হয়ে এই বিশ্বকাপের মূল ভাবনা ও লোগো সাজানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটিতে আফ্রিকান
অঞ্চলের একাধিক ক্রিকেট কিংবদন্তি—দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রেইম স্মিথ, মাখায়া এনটিনি, হাশিম
আমলা, টেম্বা বাভুমা, কাগিসো রাবাদা এবং জিম্বাবুয়ের হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও নামিবিয়ার
রুডলফ জানসেন ভ্যান ভুরেন উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বকাপের মোট ৫৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ৩টি
দেশের ১২টি আধুনিক স্টেডিয়ামে।
দক্ষিণ আফ্রিকা (৮টি ভেন্যু): ওয়ান্ডারার্স
স্টেডিয়াম (জোহানেসবার্গ), সেঞ্চুরিয়ন (শোয়ানে), নিউল্যান্ডস (কেপ টাউন), কিংসমিড
(ডারবান), সেন্ট জর্জ পার্ক (গেবেখা), মাঙ্গাউং ওভাল (ব্লুমফন্টিন), বোল্যান্ড পার্ক
(পার্ল) এবং বাফেলো পার্ক (পূর্ব লন্ডন/কু গোম্পো)। জিম্বাবুয়ে (৩টি ভেন্যু): হারারে
স্পোর্টস ক্লাব (হারারে), কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব (বুলাওয়েও) এবং মেসি-ওয়া-তুনিয়া আন্তর্জাতিক
ক্রিকেট স্টেডিয়াম (ভিক্টোরিয়া ফলস)। নামিবিয়া (১টি ভেন্যু): নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ড
(উইন্ডহোক)। সিনিয়র পর্যায়ে এটিই নামিবিয়ার জন্য প্রথম কোনো বড় আইসিসি টুর্নামেন্ট
আয়োজনের সুযোগ।
২০২৭ বিশ্বকাপে মোট ১৪টি দেশ অংশগ্রহণ
করবে। টুর্নামেন্টটিকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে আইসিসি এক নতুন ত্রি-স্তরীয়
ফরম্যাট ঘোষণা করেছে। যেখানে র্যাঙ্কিংয়ের ১২ থেকে ১৪ নম্বরে থাকা দলগুলো প্রথমে রাউন্ড-রবিন
পদ্ধতিতে ‘সুপার সিরিজ’-এ
মুখোমুখি হবে এবং বিজয়ী দল মূল পর্বে টিকিট পাবে। এরপর ১২টি দল দুটি গ্রুপে বিভক্ত
হয়ে ৩০টি ম্যাচ খেলবে। দুই গ্রুপের শীর্ষ ৩টি করে দল এবং দুই গ্রুপ মিলিয়ে সপ্তম সেরা
দল নিয়ে গঠিত হবে ‘সুপার ৭’ পর্ব। সুপার ৭-এর শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন
করবে।
আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ ও আইসিসি সিইও
সঞ্জোগ গুপ্ত জানান, ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের পর আফ্রিকায় এই বৈশ্বিক আয়োজন অঞ্চলটির
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা বিশ্বমঞ্চে অনন্যভাবে
ফুটিয়ে তুলবে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

