বিশ্বকাপে চমকপ্রদ পারফরম্যান্স করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া কেপ ভার্দির তারকা গোলরক্ষক ভোজিনহা চিলিয়ান ফুটবলে পা রাখার আগেই এক অনন্য নজির গড়েছেন। চিলির শীর্ষ ফুটবল লিগে কোনো খেলোয়াড়ের জার্সিতে অফিসিয়াল নামের পরিবর্তে ডাকনাম লেখার অনুমতি দেওয়া হলো। আর এই বিশেষ নিয়ম ছাড় দেওয়া হয়েছে ৪০ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় গোলরক্ষকের জন্যই। চিলির পেশাদার ফুটবল সংস্থা (এএনএফপি) সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। তবে জার্সি সংক্রান্ত জটিলতা কাটলেও চিলির সবচেয়ে সফল ক্লাব কোলো-কোলো'তে ভোজিনহার যোগ দেওয়া নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
চিলির প্রিমেরা ডিভিশনের প্রচলিত নিয়ম
অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের জার্সির পেছনে কেবল তাদের অফিসিয়াল পারিবারিক নাম (সারনেম) ব্যবহার
করার নিয়ম ছিল। কিন্তু ভোজিনহার ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল করতে সম্মত হয়েছে আয়োজক কমিটি।
ভোজিনহার পূর্ণ নাম জোসিমার হোসে এভোরা দিয়াস। কিন্তু ফুটবল বিশ্বে তিনি 'ভোজিনহা'
নামেই সুপরিচিত।
কোলো-কোলো কর্তৃপক্ষের বিশেষ আবেদনের প্রেক্ষিতে
চিলির অন্যান্য ক্লাবগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারাও ভোজিনহাকে এই ছাড় দেওয়ার পক্ষে সমর্থন
জানান। জানা গেছে, চুক্তিতে সই করার ক্ষেত্রে নিজের বিখ্যাত ডাকনামটি জার্সিতে ব্যবহার
করতে পারা ভোজিনহার অন্যতম শর্ত ছিল।
জার্সি সংক্রান্ত সুখবরের মাঝেও ক্লাবে
তাঁর যোগদান নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন। এক সপ্তাহ আগে চিলির সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী
ও সফল ক্লাব কোলো-কোলো ভোজিনহাকে বড় চমক হিসেবে দলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। পূর্বনির্ধারিত
সময় অনুযায়ী গত মঙ্গলবার সান্তিয়াগোতে তার অবতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু ভিসা জটিলতার
কারণে তা পিছিয়ে বৃহস্পতিবার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি বিমানেই ওঠেননি।
এতে করে ক্লাব সমর্থক ও ম্যানেজমেন্টের
মধ্যে তৈরি হয় চরম উদ্বেগ। এই জল্পনা-কল্পনার বিষয়ে কলো-কলোর পরিচালক হাইমে পিজারো
আশ্বস্ত করে জানান, চুক্তি বাতিলের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, আমরা কিছু সময় আগেই
তাঁর এজেন্টের সাথে কথা বলেছি। ভোজিনহা তাঁর কিছু ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের জন্য অতিরিক্ত
সময় চেয়েছেন।
তবে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর, চুক্তিপত্রে
এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেননি এই তারকা গোলরক্ষক। দলে নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা
থাকলেও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন কোলো-কোলোর প্রধান কোচ ফার্নান্দো ওরতিজ। এক সংবাদ
সম্মেলনে তিনি জানান, ভোজিনহার সাথে তার সরাসরি কথা হয়েছে।
ওরতিজ বলেন, আমাদের কথা হয়েছে এবং আমি
বুঝতে পেরেছি তিনি এখানে আসতে বেশ আনন্দিত। তাঁর ব্যক্তিগত কিছু বিষয় মেটাতে হচ্ছে,
যা খুবই স্বাভাবিক। আমাদের লিগে তার মতো আন্তর্জাতিক মানের একজন তারকা খেলোয়াড়ের আগমনকে
ঘিরে উত্তেজনা থাকবেই। আমরা আশা করছি তিনি দ্রুতই নিজের সমস্যাগুলো সমাধান করে আমাদের
সাথে যোগ দেবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় হলেও চিলিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ভোজিনহা
নিজে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে ক্লাব কোচ ওরতিজের দাবি, জলঘোলা হলেও
সবকিছু সঠিক প্রক্রিয়াতেই এগোচ্ছে। এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর ভোজিনহা শেষ পর্যন্ত চিলির
ক্লাবে যোগ দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ে কি না।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

