অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেলেন ইরানের দুই নারী ফুটবলার
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৬
জাতীয় সংগীত না গেয়ে নিজ দেশে "দেশদ্রোহী" আখ্যা পাওয়া ইরানের দুই সাবেক নারী ফুটবলারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
ব্রিসবেনে আয়োজিত এক বিশেষ
অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী টনি বার্কের উপস্থিতিতে
ফাতেমে পাসানদিদে (২২) এবং আতেফে রামাজানিসাদেহ (৩৪) অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হিসেবে শপথ
গ্রহণ করেন।
প্রতিবাদের জেরে মাতৃভূমি
ছাড়তে বাধ্য হওয়া এই দুই ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়ে উচ্ছ্বাস ও গভীর
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত মার্চে
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি নারী এশিয়ান কাপ চলাকালে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে
ইরানের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় তা বর্জন করে নীরবতা পালন করেন
ইরানি ফুটবলাররা। এই প্রতিবাদী পদক্ষেপের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সরকারি মহলে
তাদের যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক হিসেবে অভিহিত করা হয়।
নিরাপত্তা শঙ্কায় টুর্নামেন্ট
শেষেই ইরান দলের ৭ জন সদস্য অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জানান।
পরবর্তীতে পরিবারের ওপর চাপ ও হুমকির মুখে পাঁচজন ফুটবলার ইরানে ফিরে গেলেও পাসানদিদে
ও রামাজানিসাদেহ অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যান। তৎকালীন রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তাদের
সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ আন্তর্জাতিক
বিশ্ব তাদের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেছিল।
অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত শরণার্থীদের
নাগরিকত্বের আবেদন করতে হলে ন্যূনতম চার বছর বৈধ ভিসায় বসবাস করতে হয়। তবে ফুটবলারদের
প্রতি মানবিক দৃষ্টিকোণ এবং দ্রুত অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় দল বা ঘরোয়া লিগে খেলার সুযোগ
করে দিতে বিশেষ বিধিতে তাদের দ্রুততম সময়ে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়।
ব্রিসবেনের স্থানীয় ইরানি
কমিউনিটি ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে নাগরিকত্বের সনদ হাতে পেয়ে রামাজানিসাদেহ বলেন, এটি
আমার জন্য একটি বিশেষ ও অবিস্মরণীয় দিন। অস্ট্রেলিয়া আমাকে জীবনের নতুন স্বপ্ন গড়ার
সুযোগ দিয়েছে। তবে নিজের শেকড় ও জন্মভূমির স্মৃতি আমি আজীবন সাথে বহন করব।
অন্যদিকে পাসানদিদে এই মুহূর্তটিকে
তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন বলে আখ্যা দেন এবং যারা ইরানে এখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে
লড়াই করতে গিয়ে কারাগারে বন্দি বা জীবন হারিয়েছেন, তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেওয়ার
পর থেকেই এই দুই নারী ফুটবলার স্থানীয় এ-লিগের শীর্ষ ক্লাব ব্রিসবেন রোর-এর নারী দলের
সাথে অনুশীলন শুরু করেছিলেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও তাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে
এবং দলের হয়ে পেশাদার ম্যাচ খেলার জন্য ক্লাবের দরজা সবসময় খোলা থাকবে বলে আশ্বাস
দেওয়া হয়েছে। দুই ফুটবলারের এই নাগরিকত্ব লাভ কেবল তাদের সুরক্ষাই সুনিশ্চিত করেনি,
বরং খেলাধুলার মঞ্চে রাজনৈতিক বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকারের নতুন এক দৃষ্টান্ত তৈরি
করল।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

