অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনটি পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। অজিদের প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে দিন শেষ করেছে টাইগাররা। স্বাগতিকদের ধ্বসিয়ে দেওয়ার নেপথ্য কারিগর পেসার হাসান মাহমুদ। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ১৭ ওভারে মাত্র ৫৫ রান খরচায় ৬টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেছেন এই ডানহাতি স্পিডস্টার।
হাসানের এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে কোনো
জটিল পরিকল্পনা ছিল না। অফস্টাম্পের নিখুঁত লাইন-লেংথে ধারাবাহিকভাবে বল করে ক্যাঙ্গারু
ব্যাটারদের ভুলের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। তাতেই মিলেছে ঐতিহাসিক সাফল্য—অস্ট্রেলিয়ার
মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার বিরল কীর্তি গড়েছেন
তিনি।
লাইন, লেংথ আর চাপ তৈরির একই কৌশল ধরে
রেখে জেইক ওয়েদারাল্ড, ট্র্যাভিস হেড, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে সাজঘরে ফেরান
হাসান। এমনকি শেষদিকে স্টিভ স্মিথ ও নাথান লায়নকেও ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায়
বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে হাসানের ৬/৫৫ বোলিং ফিগারই এখন সেরা, যা ২০০৩ সালে মাশরাফি
বিন মুর্তজার (৩/৭৪) রেকর্ডকে পেছনে ফেলেছে।
ইনিংস বিরতিতে ফক্স ক্রিকেটে অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে
হাসান বলেন, আমি আলাদা কিছু না ভেবে শুধু লাইন ও লেংথ ঠিক রেখে বল করার চেষ্টা করেছি।
প্রক্রিয়াটা ধরে রেখেছি এবং অধিনায়ক যা বলেছেন তা অনুসরণ করেছি।
হাসানকে চমৎকার সঙ্গ দিয়ে তাসকিন আহমেদ
ও এবাদত হোসেন নেন ২টি করে উইকেট। ফলে অজিদের ১০টি উইকেটের সবগুলোই তুলে নেন বাংলাদেশের
তিন পেসার। টেস্ট ইতিহাসে প্রতিপক্ষের ১০ উইকেটই বাংলাদেশি পেসারদের নেওয়ার ঘটনা এটি
মাত্র দ্বিতীয়। বাংলাদেশের এই পেস তাণ্ডব ও বোলিংয়ের ধারাবাহিকতায় মুগ্ধ হয়েছেন
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারও।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

