Logo

খেলা

দুই দিনেই বাংলাদেশের টেস্ট হার, সিরিজ ড্র

Icon

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩২

দুই দিনেই বাংলাদেশের টেস্ট হার, সিরিজ ড্র

ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে এসে আগেও অনেক রকম ‘হুমকি’ পেয়েছে বাংলাদেশ দল। ‘দুই দিনে হারিয়ে দেব’, ‘একদিনে ধসিয়ে দেব’- এমনটি শুনতের টাইগাররা। ডারউইনের প্রথম টেস্টে উল্টো বাংলাদেশই জিতে যায় চতুর্থ দিন শেষ হওয়ার আগে। কিন্তু নতুন টেস্ট ভেন্যু ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়া আর ছাড়ল না বাংলাদেশকে।

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় টেস্ট শুরু হয়েছিল শনিবার, ম্যাচটা শেষ হয়ে গেল আজ রোববার চা বিরতির পর আর তিন বলের মধ্যেই। ডারউইনে না পারলেও ম্যাকাইতে এসে শেষ পর্যন্ত দুই দিনে বাংলাদেশকে টেস্ট হারানোর হুমকিটাই বাস্তবায়ন করে দেখাল অস্ট্রেলিয়া। এই প্রথম দুই দিনে টেস্ট হেরেছে বাংলাদেশ।

ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫১ রানে হারিয়ে সিরিজ ড্র করল অস্ট্রেলিয়া।

১৮ উইকেটের প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনে ১২ উইকেট পড়ে গেল ৪১ ওভারেই। রোববার চা-বিরতির পর প্রথম ওভারেই শেষ হয় খেলা।

সব মিলিয়ে ৭৫০ বলেই শেষ এই ম্যাচ। টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম ম্যাচ এটি। অস্ট্রেলিয়ায় এর চেয়ে কম বলে টেস্ট শেষ হয়েছে একটিই, সেই ১৯৩২ সালে।

প্রথম দিনে বাংলাদেশকে ৬৪ রানে গুটিয়ে দেওয়া অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ২১০ রানে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ ৯৫ রানেই।

যদিও ম্যাচে দারুণ লড়াইয়ের উপলক্ষ এনে দিয়েছিলেন শরিফুল ইসলাম। বীরোচিত বোলিংয়ে ৭ উইকেট নিয়ে একগাদা রেকর্ড গড়েন বাঁহাতি এই পেসার। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় চাপা পড়ে যায় তার অসাধারণ বোলিং।

টেস্ট ক্রিকেটে ২৬ বছরের পথচলায় প্রথমবার এক টেস্টের দুই ইনিংসেই একশর নিচে আটকে গেল বাংলাদেশ।

পিচ যদিও খুব ভয়ঙ্কর ছিল না। প্রথম দিনের তুলনায় এ দিন কিছুটা সহজ হয়ে আসে ব্যাটিংয়ের জন্য। কিন্তু সফরের সবচেয়ে বাজে ব্যাটিং প্রদর্শনী এই দিনটিতেই মেলে ধরে বাংলাদেশ। একের পর এক ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন খামখেয়ালি শটে।

প্রথম ইনিংসে ১২ রানে ৬ উইকেট শিকারি মিচেল স্টার্ক এবার নিয়েছেন ৩৯ রানে ৪টি। ম্যান অব দা ম্যাচ তিনি, ম্যান অব দা সিরিজও।

সকালে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে দিন শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিন ও ন্যাথান লায়নের জুটি দিনের প্রথম সাত ওভার কাটিয়ে দেয় ভালোভাবেই। এক পাশে শরিফুল ভালো বোলিং করলেও আরেক পাশে খুব ভালো করতে পারেননি হাসান মাহমুদ।

৩৮ রানের জুটি ভাঙেন শরিফুলই। স্বপ্নের মতো এক নিখুঁত ইনসুইঙ্গিং ডেলিভারিতে গ্রিনকে ভূপাতিত করে এলবিডব্লিউ করে দেন তিনি। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এবার থামেন ৬৭ রানে।

শেষ জুটিতে বাংলাদেশকে কিছুটা যন্ত্রণা দিয়ে ২৪ রান যোগ করেন লায়ন ও জশ হেইজেলউড। এর মধ্যে তাসকিনের এক ওভারেই লায়নের ছক্কা ও চারসহ আসে ১৭ রান। হেইজেলউডকে ফিরিয়ে ইনিংস শেষ করেন লায়ন।

শরিফুলের নামের পাশে তখন ৪৮ রানে ৭ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে ৭ উইকেট শিকার করা প্রথম পেসার তিনিই। পাশাপাশি গড়েন পেস-স্পিন মিলিয়েই দেশের বাইরে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের কীর্তি। দেশে-বিদেশে মিলিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় সেরা বোলিং এটি। ১৪৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় কোনো সফরকারী বাঁহাতি পেসারের ৭ উইকেট!

তার এসব কীর্তির সুবাস উড়ে যায় সতীর্থদের ব্যাটিং দুঃস্বপ্নে।

১৪৬ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের প্রথম লক্ষ্য ছিল ইনিংস পরাজয় এড়ানো। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমে আবার স্টার্কের তোপের মুখে পড়ে যায় তারা।

নড়বড়ে ১০ মিনিটের পর সাদমান ইসলাম আউট হন বাজেভাবে। বল খেলবেন নাকি ছাড়বেন, দ্বিধায় পড়ে শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েই প্রথম বলে বোল্ড মুমিনুল হক। সাবধানী শুরুর পর লাঞ্চের একটু আগে কামিন্সের বলে দৃষ্টিকটূ শটে আউট তানজিদ হাসান।

টালমাটাল দলকে একটু থিতু করার চেষ্টা করেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। ক্রিজে গিয়েই দারুণ কিছু ড্রাইভ খেলেন শান্ত। স্টার্কের বলে পাঁচটি বাউন্ডারিতে ২১ রানে পৌঁছে যান ১২ বল খেলেই। এরপর মন দেন ইনিংস গড়ে তোলায়।

দুই ব্যাটসম্যানকেই যখন মনে হচ্ছিল সাবলীল, তখন শান্তর ওই আত্মহত্যা। লং অফ সীমানায় ফিল্ডার রেখে বল করছিলেন ন্যাথান লায়ন। তার বলে টার্ন খুব একটা হচ্ছিল না। বাংলাদেশ অধিনায়ক হুট করেই তুলে মারতে চাইলেন এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে। কিন্তু টার্ন না থাকায় ও বাড়তি বাউন্সের কারণে বল গেল সোজা লং অফে স্টার্কের হাতে।

এরপর একের পর এক উইকেট উইকেট পদতে থাকে টপাটপ। স্টার্কের বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে শরীর থেকে অনেক দূরে খেলে স্লিপে ধরা পড়েন লিটন। সিরিজের তিন ম্যাচেই অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান আউট হলেন শূন্য রানে। কামিন্সের যে বল ছিল চার মারার মতো, সেটিতেই উইকেটের পেছনে ধরা পড়লেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

লোয়ার অর্ডারও এ দিন আর লড়াই করতে পারেনি। কামিন্সের বাউন্সারে ফেরেন হাসান মাহমুদ, স্টার্কের দুর্দান্ত ডেলিভারির জবাব পাননি তাইজুল ইসলাম।

মুশফিক এক প্রান্তে পড়ে থাকলেও শেষ দিকে দৃষ্টিকটূ স্ট্রাইক দিয়েছেন লোয়ার অর্ডারদের। সেটির খেসারত দিতে হয়েছে দলকে।

৮ উইকেট হারিয়ে চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতির পর তিন বলের মধ্যে শেষ দুটি উইকেট নিয়ে নেন লায়ন। ৮০ বলে ২৯ রানে অপরাজিত রয়ে যান মুশফিক।

শান্ত ও মুশফিক মিলে করেছেন ৬০ রান। বাকি ৯ ব্যাটারের সম্মিলিত রান ২৮। অতিরিক্ত থেকে এসেছে ৭ রান।

প্রবাদে যদিও বলে, ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’ কিংবা ‘লোকে মনে রাখে শেষটাই’, আদতে তা সত্যি নয় সবসময়। এই সিরিজেই যেমন শেষটি বাজে হলেও সফরটি স্মরণীয় হয়েই থাকবে দলের জন্য। প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক জয় বা সিরিজ ড্র করে ফেরা, এটিই বা কজন ভাবতে পেরেছিলেন আগে!

বাংলাদেশের পরের সিরিজ অক্টোবরে দেশের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। নভেম্বরে আরেকটি কঠিন পরীক্ষা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৬৪।

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৫২.৩ ওভারে (আগের দিন ১৬৫/৮) ২১০ (গ্রিন ৬৭, লায়ন ৩২*, হেইজেলউড ৬; তাসকিন ১২-১-৫৮-১, হাসান ১৪-৩-৬৭-০, শরিফুল ১৫-৩-৪৮-৭, তাইজুল ৯.৩-১-১৭-১, মিরাজ ২-১-৪-১)।

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৩৮.৩ ওভারে ৯৫ (তানজিদ ৯, সাদমান ১, মুমিনুল ০, শান্ত ৩১, মুশফিক ২৯*, লিটন ০, মিরাজ ১, হাসান ২, তাইজুল ৭, তাসকিন ৮, শরিফুল ০; স্টার্ক ১০-৩-৩৯-৪, হেইজেলউড ৭-১-১৬-০, কামিন্স ১০-৪-১০-৩, লায়ন ১১.৩-৪-২৫-৩)।

ফল: অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৫১ রানে জয়ী।

সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ ড্র।

ম্যান অব দা ম্যাচ ও সিরিজ: মিচেল স্টার্ক।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন