ছেলে থেকে মেয়ে হওয়া
অনয়া পাচ্ছেন ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৪
ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার ও জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের কন্যা অনয়া বাঙ্গার পেশাদার নারী ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) নিশ্চিত করেছে যে, তাদের অন্তর্ভূক্তিমূলক নীতি অনুযায়ী অনয়া ২০২৭ সালের মার্চ থেকে অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো এলিট নারী ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এই সিদ্ধান্তের পর নারী বিগ ব্যাশ লিগে (ডব্লিউবিবিএল) খেলার লক্ষ্য স্থির করেছেন তিনি।
চলতি বছরের মার্চ মাসে জেন্ডার-অ্যাফার্মিং সার্জারি (লিঙ্গান্তর অস্ত্রোপচার) সম্পন্ন করার পর অনয়া ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ইনক্লুশন অব ট্রান্সজেন্ডার অ্যান্ড জেন্ডার ডাইভার্স প্লেয়ার্স ইন এলিট ক্রিকেট পলিসির অধীনে আবেদন করেছিলেন। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা এবং অন্যান্য শর্তাবলী পূরণের ভিত্তিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাকে নারী ক্রিকেটে অন্তর্ভুক্তির অনুমতি দিয়েছে।
-6a9050b030983.jpg)
এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত আবেগঘন মুহূর্ত
হিসেবে বর্ণনা করে বোম্বে টাইমস -কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনয়া বলেন, আমার কাছে এটি অত্যন্ত
আবেগঘন এক মুহূর্ত। রূপান্তরের পর এক পর্যায়ে আমি ভেবেছিলাম ক্রিকেটকে বুঝি চিরতরে
হারিয়ে ফেলেছি। শৈশব থেকেই ক্রিকেট আমার পরিচয়ের মূল অংশ ছিল। তাই এটি কেবল কোনো লিগে
খেলার সুযোগ পাওয়া নয়, বরং নিজের ভালোবাসার খেলায় ফের ফেরার সম্ভাবনা।
কেবল যোগ্যতা অর্জন করলেই ডব্লিউবিবিএল
ফ্র্যাঞ্চাইজিতে সুযোগ নিশ্চিত হয় না। অনয়া স্পষ্ট করেন যে, মূল একাদশে জায়গা পেতে
হলে তাকে মাঠে পারফর্ম করেই সুযোগ অর্জন করতে হবে। তিনি জানান, ডব্লিউবিবিএলে বিদেশি
খেলোয়াড়দের জন্য আইপিএল বা ডব্লিউপিএলের মতো ড্রাফটিং ও কনট্র্যাক্টিং সিস্টেম রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাকে প্রথমে নিজেকে সেরা শারীরিক
ও প্রতিযোগিতামূলক ফর্মে নিয়ে আসতে হবে। অস্ট্রেলিয়ান স্থানীয় প্রিমিয়ার ক্রিকেট
লিগগুলোতে ভালো ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং দিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে বোঝাতে হবে যে আমি
এই স্তরে খেলার যোগ্য।
বিশ্বজুড়ে রূপান্তরকামী (ট্রান্সজেন্ডার) খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থার ভিন্ন নীতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) যেখানে লিঙ্গান্তরিত নারীদের আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে অংশ নেওয়ার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে, সেখানে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতায় বিজ্ঞানভিত্তিক ও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে হরমোন নীতি মেনে সুযোগ দেওয়ার বিধান রেখেছে।
-6a9050c14cc3b.jpg)
ভারতে স্পষ্ট কোনো নীতিমালার জন্য অনির্দিষ্টকাল
অপেক্ষা না করে নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন বিষয়গুলোতেই মনোযোগ দিয়েছেন অনয়া। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া
আরও নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৭ সালের মার্চের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি অনয়া বর্তমানে
অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় প্রিমিয়ার ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের
জন্য প্রস্তুত। সমস্ত বাধা পেরিয়ে অনয়ার লক্ষ্য একটাই—বিশ্বের সেরা
খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে স্রেফ একজন সাধারণ ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে মেলে ধরা।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

