Logo

খেলা

ক্রিকেট থেকে খো-খো, স্বপ্নের পেছনে ছুটছেন তনিমা

Icon

জান্নাতুল লামিশা, গবি

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪৫

ক্রিকেট থেকে খো-খো, স্বপ্নের পেছনে ছুটছেন তনিমা

ছবি: সংগৃহীত

একসময় ক্রিকেট ব্যাট হাতে মাঠে নামতেন তনিমা আক্তার। এরপর পায়ে উঠেছে ফুটবলের বুট, হাতে ধরা পড়েছে বেসবলের ব্যাট। এক খেলা থেকে আরেক খেলায় বদলেছে মাঠ, বদলেছে অভিজ্ঞতা কিন্তু বদলায়নি স্বপ্ন। দেশের হয়ে বড় মঞ্চে খেলার সেই স্বপ্ন এখন তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে খো-খোর মাঠে।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তনিমা বর্তমানে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির খো-খো দলের হয়ে খেলছেন। 

ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট তনিমা। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি ছিল তার টান। মেঝ ভাই খেলাধুলা করতেন। তাকে দেখেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তনিমার। স্কুলজীবনে ক্রিকেট দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাধুলার জগতে পা রাখেন তিনি। 

গাজীরচট আকবর মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে পড়ার সময় আন্তঃস্কুল ক্রিকেটে অংশ নেন তনিমা। স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক রেজাউল হক উজ্জ্বল তাকে খেলাধুলায় এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেন। ক্রিকেটের পর ফুটবলেও যুক্ত হন তিনি। অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ে বঙ্গমাতা ফুটবল জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। 

এরপর কোচ মহিউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে বেসবলের সঙ্গে পরিচয়। সাভার কমিউনিটি স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে খেলার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে থাকেন তনিমা। ভালো পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় সুযোগ পান বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির হয়ে বেসবল খেলার।

বেসবল তাকে দেশের সীমানার বাইরেও নিয়ে যায়। বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির হয়ে মালয়েশিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক বেসবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। সেখানে বাংলাদেশ দল হয় রানার্সআপ। 

তবে একসময় এসে খো-খোকেই নিজের প্রধান খেলা হিসেবে বেছে নেন তনিমা। বর্তমানে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির খো-খো দলের হয়ে খেলছেন তিনি। ২০২৫ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত খো-খো বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আন্তর্জাতিক সেই অভিজ্ঞতা খো-খো নিয়ে তার স্বপ্নকে আরও দৃঢ় করেছে। 

খেলাধুলার এই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে কম কথা শুনতে হয়নি তাকে। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কেউ কেউ খেলাধুলা নিয়ে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করতেন। কিন্তু সেসব কথাকে পাশে সরিয়ে নিজের লক্ষ্যেই মনোযোগ রেখেছেন তনিমা। মাঠে সাফল্য পাওয়ার পর যারা একসময় সমালোচনা করতেন, তাদের অনেকেই পরে নীরব হয়ে যান। খেলাধুলার কারণে বিয়ের বিষয়ে পরিবারের চাপও আগের তুলনায় কমেছে বলে জানান তিনি। 

তনিমার খেলোয়াড় হয়ে ওঠার গল্পে কোচ মহিউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরের নাম আলাদা করে আসে। তনিমার ভাষ্য, স্বাক্ষর শুধু কোচ হিসেবে নয়, বড় ভাই ও শিক্ষকের মতোও তাকে সহযোগিতা করেছেন। খেলার বিভিন্ন সময়ে উৎসাহ ও পরামর্শ দিয়ে পাশে থেকেছেন তিনি। 

বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাহমুদা মাহিও তনিমার অনুপ্রেরণার একজন। তনিমার সঙ্গে বড় বোনের মতো আচরণ করে বিভিন্ন সময়ে তাকে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন মাহি।

তনিমার পরিবার মধ্যবিত্ত। পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস একটি মুদি দোকান। তারপরও খেলাধুলার প্রতি তনিমার আগ্রহে পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা এসেছে। প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও সহায়তা পেয়েছেন তিনি। 

পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা চালিয়ে যেতে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতাও পাচ্ছেন তনিমা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার খেলাধুলার প্রতি আগ্রহকে উৎসাহ দেন। পড়াশোনার সঙ্গে খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা সহযোগিতা করেন। 

ক্রিকেট দিয়ে শুরু হয়েছিল যে পথচলা, তা তাকে নিয়ে গেছে ফুটবলের জাতীয় মঞ্চে, বেসবলের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এখন সেই পথের নতুন ঠিকানা খো-খো। তনিমা বলেন, দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও ভালো করার স্বপ্ন নিয়েই এগিয়ে যেতে চান তিনি। এক মাঠ থেকে আরেক মাঠে ছুটে চলা এই তরুণীর স্বপ্ন এখন আরও দূরের। খো-খোর মাঠে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে দেশের হয়ে আরও বড় সাফল্য এনে দেওয়া।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন