মনোমুগ্ধকর আকাশগঙ্গা
আগস্টজুড়ে দুই গ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টিসহ মহাজাগতিক মেলা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৬
চলতি আগস্ট মাসজুড়ে সৌদি আরবের আকাশে দেখা যাবে একের পর এক বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ, পারসিড উল্কাবৃষ্টি, উজ্জ্বল গ্রহের অবস্থান এবং আকাশগঙ্গার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য—সব মিলিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় সময়।
জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির (জেএএস) তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষভাবে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে। বিস্তীর্ণ মরুভূমি, তুলনামূলক কম আলোকদূষণ এবং বছরের অধিকাংশ সময় পরিষ্কার আকাশের কারণে সৌদি আরব ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সম্ভাবনাময় জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে।
১২ আগস্টের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ: আগস্টের সবচেয়ে আলোচিত বৈশ্বিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা হবে ১২ আগস্টের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। যদিও সৌদি আরব থেকে এটি দেখা যাবে না, তবুও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে এটি হবে বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ।
গ্রহণের পূর্ণ পর্যায় দেখা যাবে রাশিয়া, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং স্পেনের কিছু অঞ্চল থেকে। সৌদি আরবের বাসিন্দাদের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৭ সালের ২ আগস্ট পর্যন্ত। সে সময় দেশটির কিছু এলাকায় গ্রহণের পূর্ণ পর্যায় ছয় মিনিটেরও বেশি সময় স্থায়ী হবে।
পারসিড উল্কাবৃষ্টির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য: আগস্ট মাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্যগুলোর একটি হবে পারসিড উল্কাবৃষ্টি (Perseid Meteor Shower)। জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ১২ ও ১৩ আগস্ট রাতে এর সর্বোচ্চ সক্রিয়তা দেখা যাবে।
এবার চাঁদের আলো তুলনামূলক কম থাকায় উল্কাবৃষ্টি আগের অনেক বছরের তুলনায় আরও স্পষ্টভাবে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, আলোকদূষণমুক্ত অন্ধকার এলাকায় অনুকূল আবহাওয়ায় প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রায় ১০০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, উল্কাবৃষ্টি উপভোগের জন্য কোনো দূরবীনের প্রয়োজন হয় না। খোলা আকাশের নিচে শহরের আলোকদূষণ থেকে দূরে অবস্থান করলেই খালি চোখে এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব।
মাসের শেষে গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ: আগস্টের শেষ দিকে, ২৭-২৮ আগস্ট রাতে আকাশে দেখা যাবে একটি গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। এই গ্রহণে চাঁদের প্রায় ৯৩ শতাংশ অংশ পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে যাবে।
জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রহণের প্রাথমিক পর্যায় সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চল থেকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। যদিও এটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ নয়, তবু চাঁদের বড় অংশ অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় দৃশ্যটি হবে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
সন্ধ্যার আকাশে উজ্জ্বল শুক্র: আগস্টজুড়ে সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে সহজেই দেখা যাবে শুক্র গ্রহকে। পাশাপাশি শনি, বৃহস্পতি ও মঙ্গলও পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা- নাসা জানিয়েছে, ১৫ আগস্ট শুক্র তার কক্ষপথে সূর্য থেকে সর্বোচ্চ কৌণিক দূরত্বে পৌঁছাবে। এ সময় এটি সূর্য থেকে প্রায় ৪৬ ডিগ্রি কৌণিক দূরত্বে অবস্থান করবে এবং সন্ধ্যার আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল গ্রহ হিসেবে দৃশ্যমান হবে। খালি চোখেই শুক্রকে সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। দূরবীন বা ছোট টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে এর অর্ধচন্দ্রাকৃতির চেহারাও দেখা যেতে পারে।
মিল্কিওয়ে দেখার আদর্শ সময়: জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের আলো কম থাকা রাতগুলোতে সৌদি আরবের মরুভূমি ও ডার্ক-স্কাই অঞ্চল থেকে মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গার বিস্তৃত অংশ স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব।
এর আগে গত ১২ জুলাই উত্তর সীমান্ত অঞ্চলের রাফহা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে উম্মুল আসাফির এলাকায় আকাশগঙ্গার সর্পিল বাহুর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ধারণ করা হয়। আফাক অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির সদস্য বেরজিস আল-ফুলাইহ জানান, ওই রাতে হাজার হাজার তারা ও বিভিন্ন নীহারিকা খালি চোখেই স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছিল।
আগস্টে একই ধরনের পরিষ্কার আকাশ থাকলে সৌদি আরবের বিভিন্ন মরুভূমি এলাকায় আবারও এমন মনোরম মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ মিলতে পারে। সূত্র: আরব নিউজ, জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটি
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

