Logo

প্রযুক্তি

মঙ্গল গ্রহে হাঁটতে থাকা রহস্যময় আকৃতির সন্ধান

Icon

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৪২

মঙ্গল গ্রহে হাঁটতে থাকা রহস্যময় আকৃতির সন্ধান

মহাকাশের বিশাল বুকে মঙ্গল গ্রহ এক অসীম বিস্ময়ের নাম। মঙ্গল গ্রহ নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। লাল এই গ্রহের শুষ্ক ও রুক্ষ মরুভূমির ভেতরে লুকিয়ে আছে কোটি কোটি বছরের পুরোনো ইতিহাস। কোটি কোটি মাইল দূর থেকে লাল গ্রহটি সম্পর্কে জানতে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে মঙ্গল গ্রহের একটি ছবি ভিনগ্রহে প্রাণ থাকার জল্পনা নতুন করে উসকে দিয়েছে। ছবিতে মঙ্গল গ্রহে হাঁটতে থাকা মানুষের মতো এক অদ্ভুত আকৃতির দেখা মিলেছে। 

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্পিরিট রোভার ২০০৭ সালে ছবিটি তুললেও সম্প্রতি ছবিটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকেই পাথরের ভিড়ে ফুটে ওঠা সেই মানবাকৃতি ভাবিয়ে তুলেছে বিশ্বকে।

ছবিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি হাত ছড়িয়ে হাঁটার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন। দূর থেকে দেখলে মনে হয় তিনি এক পা সামনে বাড়িয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। ছবিটি দেখার পর কেউ আবার বলছেন, এটি এক হাত বাড়িয়ে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা কোনো মূর্তি। কারও মতে এটি মানুষের আকৃতিযুক্ত একটি পাথর ছাড়া কিছুই নয়। তবে মজার বিষয় হলো, আশপাশে এ ধরনের অন্য কোনো পাথর দেখা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে এক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন, এটি কেবল পাথর, আকৃতি ও ছায়ার একটি মিশ্রণ। ছবিতে অস্বাভাবিক আরও কিছু আকৃতি আপনি খুঁজে পাবেন। এটি এলিয়েনের তৈরি কিছু হলে খুব ভালো হতো। তবে তেমন হলে নাসা এবং সরকার কখনোই ছবিটি প্রকাশ্যে আনত না।

নাসা স্পষ্ট জানিয়েছে, ভিনগ্রহের প্রাণীদের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই। মঙ্গল গ্রহে বর্তমান বা অতীতের কোনো প্রাণের চিহ্নও পাওয়া যায়নি। তবু এই ছবি দেখে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের কল্পনা প্রকাশ করছেন।

প্ল্যানেটারি সোসাইটি এক ব্লগ বার্তায় মঙ্গল গ্রহের রহস্যময় এই ছবির ব্যাখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, ঘটনাটি একটি চোখের ভুল বা দৃষ্টিবিভ্রম। ছবিতে যে কেউ মানুষের মতো আকৃতি দেখতে পাবে। এটিকে বিজ্ঞানের ভাষায় প্যারেডোলিয়া বলা হয়। এটি মানুষের এমন এক মানসিক প্রবণতা, যেখানে এলোমেলো বস্তুর মধ্যে চেনা আকৃতি খুঁজে পাওয়া যায়।

চলতি মাসের শুরুর দিকে মঙ্গলগ্রহের আরেকটি ছবি অনলাইনে প্রকাশিত হয়। সেখানে একটি অবিস্ফোরিত এলিয়েন ক্ষেপণাস্ত্র পড়ে থাকতে দেখার দাবি করা হয়। ইউএফও গবেষক স্কট সি ওয়ারিং নিজের ওয়েবসাইটে সেই ছবি প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, একটি প্রাচীন যুদ্ধে মঙ্গলের সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এই ছবি তারই প্রমাণ বহন করে। সামরিক গুরুত্বের কারণে মহাকাশ সংস্থাগুলো বিষয়টি নিয়ে চুপ আছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে নাসার পক্ষ থেকে এই দাবির কোনো সমর্থন মেলেনি। নাসার মতে, এটি প্রাকৃতিক নিয়মে তৈরি একটি সাধারণ পাথর ছাড়া কিছুই নয়। বিজ্ঞানীরা জানান, কোটি কোটি বছরের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, উল্কাপাত ও প্রবল বাতাসের ক্ষয়প্রাপ্তির কারণে মঙ্গলের পাথরগুলো কৃত্রিম বস্তুর আকৃতি পেয়েছে। এর আগেও মঙ্গলে এলিয়েনের অস্তিত্ব নিয়ে এমন নানা দাবি উঠেছে। পরে তার সবই প্যারেডোলিয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

এর আগেও নাসার বিভিন্ন মঙ্গল মিশনে এমন অনেক ছবি পাওয়া গেছে, যা প্রথম দেখায় রহস্যময় মনে হয়েছিল। কখনো অদ্ভুত আকৃতির বস্তু, কখনো ডোরাকাটা পাথর নিয়ে ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ১৯৭৬ সালের ভাইকিং মিশন। তখন একটি ছবিতে মানুষের মুখের মতো অবয়ব দেখা গিয়েছিল। পরে উন্নত প্রযুক্তির ছবিতে জানা যায়, সেটি আসলে সাধারণ পাথরের গঠন ছিল। পারসিভারেন্স রোভারও আগে এমন অনেক ছবি পাঠিয়েছে, যেগুলো পরে স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক গঠন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

মঙ্গল গ্রহের বড় একটি অংশ এখনো মানুষের অজানা। পারসিভারেন্সের মতো রোভারগুলোই এখন সেখানে গবেষণার প্রধান মাধ্যম। রোভারের পাঠানো প্রতিটি ছবি ও তথ্য বিজ্ঞানীদের মঙ্গলের রহস্য বুঝতে সাহায্য করছে। বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক অনেক সময় অচেনা জিনিসের মধ্যে পরিচিত কোনো আকৃতি খুঁজে পেতে চায়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘প্যারেডোলিয়া’। তবে প্রকৃতির নিজস্ব গঠন যে মানুষের কল্পনার চেয়েও বিস্ময়কর হতে পারে, এই পাথর তারই উদাহরণ। সূত্র: ডেইলি মেইল


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন