গ্রামে থাকেন না কোনো পুরুষ, তবু অন্তঃসত্ত্বা নারীরা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:৩০

ছবি : সংগৃহীত
পুরুষশূন্য পুরো গ্রাম, থাকেন না স্বামীরাও; তবু একের পর এক অন্তঃসত্ত্বা হচ্ছেন উমোজা গ্রামের নারীরা। শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
জানা গেছে, চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এই গ্রামের অবস্থান কেনিয়ায়। গ্রামটিতে থাকতে পারেন না কোনও পুরুষ। এমনকি স্বামী কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে সন্তানদেরও থাকতে দেওয়া হয় না।
১৯৯০ সালে গ্রামটি প্রতিষ্ঠা করেন রেবেকা লোলোসোলি নামের এক নারী। তার সঙ্গে ছিলেন আরও ১৫ জন নারী। কিন্তু হঠাৎ কেন নিজেদের জন্য আলাদা গ্রাম তৈরি করলেন তারা? নেপথ্যে রয়েছে এক ভয়াবহ কাহিনি।
সংবাদমাধ্যমটির দাবি, কেনিয়ার যে প্রান্তে এই গ্রামটি অবস্থিত সেখানে একসময় চরম নির্যাতনের শিকার হতে হত নারীদের। যারা এই গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন, তারাও সবাই কোনো না কোনোভাবে পুরুষদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলেন। কেউ মানসিক নির্যাতন, কেউ ধর্ষিতা, আবার কেউ গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হয়েছেন। দীর্ঘকাল এভাবেই চলছিল তাদের জীবনযাত্রা।
কোনো পুরুষকে পছন্দ হলে তাকে গ্রামের ভিতর আনতে পারেন না কেউ। বাইরে দেখা করতে যেতে হয়।
অবশেষে রেবেকর নেতৃত্বে নিজেদের মতো করে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে বাঁচতে উদ্যোগী হন তারা। সমাজের মূল স্রোত থেকে কিছুটা দূরে নিজেদের জন্য আলাদা করে গ্রাম গড়ে তোলেন নারীরা। নিয়ম করেন, কোনও পুরুষ থাকতে পারবেন না তাদের এই গ্রামে।
কেমন সেই গ্রামের জীবনযাত্রা?
বর্তমানে উমোজা গ্রামে প্রায় ২৫০ জন নারী ও তাদের সন্তান বসবাস করে। নারীরা নিজেরাই নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করেন। এই গ্রাম দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন বহু পর্যটকও আসেন। গ্রামের বাসিন্দারা গয়না তৈরি করে সেই পর্যটকদের কাছে বিক্রি করেন। তবে পর্যটকদের মধ্যে কেবল নারীরাই ঢুকতে পারেন গ্রামটিতে।
শুধু জীবনযাপন নয়, সঙ্গী নির্বাচন নিয়েও স্বাধীনতা রয়েছে এই নারীদের। তবে কোনো পুরুষকে পছন্দ হলে তাকে গ্রামের ভিতর আনতে পারেন না কেউ। বাইরে দেখা করতে যেতে হয়। গ্রামের বাইরে সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়। ওই সম্পর্কে কোনো নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেন গ্রামের বয়স্ক নারীরাই। তবে পুত্র সন্তান হলে সে কেবল নাবালক থাকা পর্যন্তই মায়ের কাছে থাকতে পারে। সাবালক হয়ে গেলেই গ্রামের বাইরে চলে যেতে হয় তাকে।
এটিআর/