
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৫, ১২:৪২

সমকাল প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘পুলিশের জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে ভাটা’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ভেঙে পড়েছিল পুলিশি ব্যবস্থা। নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে পড়তে হয় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে। এখনও পুরো স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারেনি পুলিশ। আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বাহিনীটিকে। এমন পরিস্থিতিতেও বন্ধ আছে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম। ওপেন হাউস ডে ও উঠান বৈঠকের মতো কার্যক্রম সেভাবে দৃশ্যমান নয়। ফলে পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব বেড়েছে। জনগণ-পুলিশ ইতিবাচক সম্পৃক্ততার কর্মকাণ্ডে ভাটা দেখা দিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জনগণের সঙ্গে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের সম্পর্ক আরও সহযোগিতামূলক ও বন্ধুত্বপূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশিষ্টজন। তারা বিস্তৃত পরিসরে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি চালু করার কথা বলছেন। জনতার সঙ্গে পুলিশের ভঙ্গুর সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে এসব কার্যক্রম ভালো ফল আনতে পারে বলে মনে করছেন তারা। পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশেও জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটিকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে আইনি কাঠামোর কথাও বলা হয়েছে।
প্রথম আলো প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘লম্বা ছুটিতেও ভোগান্তির শঙ্কা’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার ঈদুল ফিতরে টানা ৯ দিনের লম্বা ছুটি। ঘরমুখী মানুষের যাত্রা স্বস্তির হওয়ার প্রত্যাশা সরকারের। কিন্তু দেশের দুটি মহাসড়কে উন্নয়নকাজ, অব্যবস্থাপনা ভোগান্তির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। বিশেষ করে ঈদের আগের দুই দিন যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে আর ব্যবস্থাপনা ঠিকঠাক না থাকলে তা যানজটে রূপ নিতে পারে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। এই সড়কের নারায়ণগঞ্জ থেকে নরসিংদী পর্যন্ত হাটবাজারের কারণে এমনিতেই চাপ থাকে। কিন্তু চার লেনের কাজ চলমান থাকায় কোথাও কোথাও সড়ক সরু হয়ে পড়েছে। কোথাও আবার খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আছে ধুলার ওড়াউড়ি। এই পথে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৯টি জেলার মানুষ যাতায়াত করেন।
টাঙ্গাইল-রংপুর পথে চার লেনের কাজ চলছে ছয় বছর ধরে। এখনো কাজ শেষ হয়নি। বিশেষ করে যমুনা সেতুর আগের অংশের কাজ এখনো চলমান। ঈদের শেষ চার দিনে যমুনা সেতু হয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজারের মতো যানবাহন চলাচল করে। ফলে ভোগান্তির আশঙ্কা এই পথেও আছে। এই পথে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের ২১টি জেলার মানুষ যাতায়াত করেন।
কালের কণ্ঠ প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘দ্রুত সংস্কার ও নির্বাচনের পথে সরকার’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনী প্রস্তুতি ও রাষ্ট্রের সংস্কারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ‘সংক্ষিপ্ত সংস্কার প্যাকেজ’ বাস্তবায়নের দিকে যাবে নাকি ‘বৃহৎ সংস্কার প্যাকেজ’ নিয়ে এগোবে তা রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ওপরই নির্ভর করছে। তবে সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত ‘সংক্ষিপ্ত সংস্কার প্যাকেজ’ বাস্তবায়ন করে দ্রুত নির্বাচনে যেতে পারে সরকার। কারণ রাষ্ট্র সংস্কারে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে যেসব প্রস্তাব রেখেছে, তাতে ইতিবাচক জবাবের সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশও ঘটছে। সে ক্ষেত্রে সংস্কার প্যাকেজ সংক্ষিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
গত ১৭ মার্চ পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে খুব বেশি সময় নেই। আমরা এরই মধ্যে সাত মাস পার করে এসেছি। আমরা বলছি, ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। কাজেই কী কী সংস্কার করতে চাই করে ফেলতে হবে।’ এ ছাড়া নির্বাচন আসন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, ‘যেহেতু নির্বাচন আসছে, নানা রকম সমস্যা হবে, নানা রকম চাপ আসবে।
এ ছাড়া গত ১৪ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর কিংবা আগামী বছরের জুনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি ‘সংক্ষিপ্ত সংস্কার প্যাকেজ’ নিয়ে একমত হয়, তবে নির্বাচন ডিসেম্বরেই হতে পারে।
নয়া দিগন্ত প্রধান শিরোনাম করেছে, ব্যাংক গ্রাহকদের স্বার্থে হচ্ছে ‘আমানত সুরক্ষা তহবিল’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের আমানতের সুরক্ষায় গঠন করা হবে ‘আমানত সুরক্ষা তহবিল’। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক তহবিল গঠন করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি পৃথক হিসাবের মাধ্যমে তহবিল পরিচালিত হবে। ‘ব্যাংক আমানত বীমা আইন ২০০০’ এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠিত ‘আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল’ এ জমাকৃত অর্থ আমানত সুরক্ষা তহবিলে (ব্যাংক কোম্পানি) প্রারম্ভিক জমা হিসেবে স্থানান্তরিত হবে। মোট সুরক্ষিত আমানতের আনুপাতিক হারে তহবিলের আকার নির্ধারিত হবে। প্রত্যেক আমানতকারীর জন্য সর্বোচ্চ সুরক্ষা আমানতের পরিমাণ হবে দুই লাখ টাকা।
‘আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ এর মাধ্যমে এই তহবিল গঠন করা হবে। দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা ও আর্থিক খাতের ওপর জনগণের আস্থা বাড়াতে বিদ্যমান ‘ব্যাংক আমানত বীমা আইন ২০০০’ রহিত করে ‘আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ জারির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক আমানত সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে। এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়নও করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য একটি পৃথক বিভাগও খোলা হবে।
ইতোমধ্যেই অধ্যাদেশের একটি খসড়া প্রণয়ন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। খসড়ায় বলা হয়েছে, জনগণের আস্থা বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় কার্যরত ব্যাংক কোম্পানি ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোতে গৃহীত আমানতের সুরক্ষা প্রদান করা প্রয়োজন এবং আমানত সুরক্ষা সংক্রান্ত যথাযথ আইনি কাঠামো নির্ধারণের জন্য ‘ব্যাংক আমানত বীমা আইন ২০০০’ রহিত করে এর যুগোপযোগী সংশোধন, পরিমার্জন, পরিবর্ধনপূর্বক পুনঃপ্রণয়ন করা প্রয়োজন।
মানবজমিন প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের আহত-শহীদদের নাম অন্তর্ভুক্তি বন্ধ’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানে সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলেন জাহিদ-এ-রহিম। সে সময়টায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা। ১৯শে জুলাই শুক্রবার জুমার পর পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। বেলা ৩টার দিকে ছাত্রলীগের আক্রমণ এবং পুলিশের গুলির সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন জাহিদরা। তবে মুহুর্মুহু গুলির সামনে টিকতে পারেননি জাহিদ। গুলিতে ঝাঁজরা হয় তার শরীর। রক্তে ভেজা শরীর লুটিয়ে পড়ে সড়কে। শহীদ হন জাহিদ-এ-রহিম। কিন্তু এখনো শহীদের সরকারি তালিকায় নাম আসেনি জাহিদের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম-এমআইএস বন্ধ থাকায় তার নাম তালিকাভুক্ত করা যাচ্ছে না।
জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সহায়তায় গড়ে তোলা হয়েছে জুলাই শহীদ ফাউন্ডেশন। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই ফাউন্ডেশন থেকে শহীদ পরিবারকে অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে আহতরা পাচ্ছেন চিকিৎসা খরচ ও সহায়তা। আহত এবং শহীদ পরিবারকে অর্থ সহায়তার দেয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারিভাবে তালিকা করা হয়। এই তালিকাকে প্রাথমিক তথ্যের উৎস ধরে সেবা দিয়ে থাকে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’।
কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ‘ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)’র আওতায় ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিবর্গের তালিকা প্রকাশ করার কাজ গত ১৯শে জানুয়ারি থেকে বন্ধ আছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- এমআইএস ওয়েবসাইটে নাম অন্তর্ভুক্তি না করার কারণে কোনো সহায়তাই পাচ্ছেন না তারা। এতে চিকিৎসা খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এ ছাড়াও ফিল্ড ভেরিফিকেশনসহ সকল কাজ সম্পন্ন হলেও, সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ সহায়তা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেক পরিবার। তারা দ্রুত এমআইএস-এ নাম অন্তর্ভুক্তিকরণের দাবি জানান।
আজকের পত্রিকা প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘অনির্বাচিতদের দেশ চালানোর অপচেষ্টা দেখছে বিএনপি’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্কার বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আজ রোববার মতামত জমা দেবে বিএনপি। এর আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত চেয়ে পাঠানো জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশমালার কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দলটি।
সংস্কার কমিশনের সুপারিশে ভবিষ্যতে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োগের অযৌক্তিক প্রচেষ্টা রয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্র, জনগণের মালিকানার প্রতিফলন হয় নির্বাচিত সংসদ এবং জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে। কিন্তু সংবিধান ও নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান হয় যে রাজনীতিবিদেরা অপাঙ্ক্তেয় এবং অনির্বাচিত লোকদেরই দেশ পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি করাই শ্রেয়।’
রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলের মহাসচিব।
অনির্বাচিতদের ক্ষমতার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এনসিপির প্রস্তাবিত গঠনপ্রক্রিয়া ও কার্যপরিধিতে যা বর্ণনা করা হয়েছে, তাতে সব স্তরে স্তরে দেখা যায়, অনির্বাচিত বিভিন্ন ব্যক্তি এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন এবং সাংবিধানিকভাবে তাঁদের ক্ষমতায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। তাতে দেখা যাবে, নির্বাচিত প্রতিনিধির আর কোনো গুরুত্ব নেই। প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি রাষ্ট্রের অনির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সম্পন্ন হবে, যদি এগুলো গৃহীত হয়।
ডিআর/এমবি