ফোনে স্ত্রীর ছবি, ৭ ফুট গর্তে শিক্ষককে জীবন্ত পুঁতল বাড়ির মালিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৫, ১২:৪৫

স্ত্রীর সঙ্গে ভাড়াটিয়ার সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ থেকেই এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে ৭ ফুট গভীর গর্তে জীবন্ত পুঁতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে। ঘটনার তিন মাস পর নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি ভারতের হরিয়ানার রোহতকে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, নিহতের নাম জগদীপ। তিনি বাবা মস্তনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগা শিক্ষক ছিলেন এবং অভিযুক্ত হরদীপের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। একদিন জগদীপের মোবাইলে নিজের স্ত্রীর ছবি দেখতে পান বাড়ির মালিক। এতে সন্দেহ হয়, তার স্ত্রীর সঙ্গে জগদীপের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। এরপরই পরিকল্পিত হত্যার ফাঁদ পাতেন হরদীপ।
হরদীপ প্রথমে চারখি দাদরির পান্তবাস গ্রামে শ্রমিকদের দিয়ে ৭ ফুট গভীর একটি গর্ত খুঁড়ান। স্থানীয়দের জানান, এটি কুয়া খোঁড়ার জন্য করা হচ্ছে। ২৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেরার পর হরদীপ ও তার কয়েকজন সহযোগী জগদীপকে অপহরণ করেন।
পুলিশের দাবি, অপহরণের পর জগদীপের হাত-পা বেঁধে মুখ ঢেকে দেওয়া হয়, যাতে তিনি চিৎকার করতে না পারেন। এরপর তাকে জীবন্ত অবস্থায় গর্তে ফেলে মাটি চাপা দিয়ে চলে যান তারা।
জগদীপ নিখোঁজের পর ১০ দিন পার হলে তার পরিবার শিবাজি কলোনি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। প্রথমে পুলিশ কোনো তথ্য পাচ্ছিল না। পরে কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে হরদীপের নাম উঠে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে হরদীপ ও তার সহযোগী ধরমপাল হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
ঘটনার তিন মাস পর গত ২৪ শে মার্চ পুলিশ গর্ত খুঁড়ে জগদীপের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এটিআর/